দিরাইয়ে একসঙ্গে নিভে গেল মনিকা-মাহফুজের জীবন
Led Bottom Ad

দিরাইয়ে একসঙ্গে নিভে গেল মনিকা-মাহফুজের জীবন

নিজস্ব প্রতিনিধি,দিরাই

২৬/০৪/২০২৬ ২২:১৯:৫২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মাত্র পাঁচ মাস আগেই ভালোবাসার টানে এক হয়েছিল দুটি জীবন। পরিবারকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন, একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকার—সবই ছিল সামনে। কিন্তু সেই স্বপ্নের গল্পটা থেমে গেল অকালেই। একসঙ্গে বিষপান করে দিরাইয়ে প্রাণ হারালেন মনিকা বেগম (১৮) ও মাহফুজ আলম (১৯)।


রোববার (২৬ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা।


স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাহফুজ ওই গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। পেশায় তিনি গার্মেন্টসকর্মী ছিলেন। একই গ্রামের মুর্শেদ মিয়ার মেয়ে মনিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে তাঁদের বিয়ে হয় প্রায় পাঁচ মাস আগে। পরে দুই পরিবার বিষয়টি মেনে নিয়ে তাঁদের একসঙ্গে বসবাস করতে দেয়।


কিন্তু স্বপ্নের সেই সংসারে হঠাৎই নেমে আসে অস্থিরতা। স্বজনদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিয়েছিল। আর সেই অজানা অস্থিরতার শেষ পরিণতি হয়ে দাঁড়ায় ভয়াবহ—একসঙ্গে বিষপান।


খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসক মনিকা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থায় মাহফুজকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনও বাঁচানো যায়নি।


মাহফুজের বাবা আজিজুর রহমানের কণ্ঠে ছিল শোক আর হতবিহ্বলতা। তিনি জানান, সকালে পরিবারের সবাই স্বাভাবিকভাবেই দিন শুরু করেছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই এমন ভয়াবহ খবর তাঁদের জীবনে নেমে আসে।


দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. প্রশান্ত দাস তালুকদার বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মনিকার মৃত্যু হয়েছিল। মাহফুজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলেও পরে তাঁর মৃত্যুর খবর আসে।


দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


গ্রামের আকাশে এখন নীরবতা, আর প্রতিটি উঠোনে যেন একটাই প্রশ্ন—ভালোবাসার এত দ্রুত এমন করুণ পরিণতি কেন?

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad