আজমিরীগঞ্জে ধান কাটার ধুম, শ্রমিক ও মেশিনের অভাবে দিশেহারা কৃষক
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধান পেকে মাঠ সোনালি হয়ে উঠলেও শ্রমিক সংকট আর হারভেস্টার মেশিনের অভাবে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পৌরসভা, জলসুখা ও কাকাইলছেও এলাকায় নতুন তিনটি হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে মাঠে সেগুলোর কোনো হদিস মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিন বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমিতেই ধান ৮০ শতাংশের বেশি পেকে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মাইকিং করে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় কৃষকরা অসহায় বোধ করছেন। শিবপাশা ইউনিয়নের কৃষক জজ মিয়া জানান, একরে ১১ হাজার টাকা দিলেও হারভেস্টার মালিকরা আসতে চাচ্ছেন না। অন্যদিকে, শুক্রীবাড়ী গ্রামের কৃষক বাবলু মিয়ার অভিযোগ, শ্রমিক সংকটের সুযোগে প্রতি একর জমির ধান কাটতে মজুরি বাবদ গুণতে হচ্ছে ১৩ হাজার টাকা, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। শ্রমিকের চড়া মজুরি আর চাষাবাদের বাড়তি খরচের বিপরীতে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিল থেকে সিলেট বিভাগে টানা সাত দিন অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদ-নদীর পানি বেড়ে হাওরের নিচু এলাকার ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক নূর মিয়া জানান, অতিবৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে হাঁটু পানি জমে গেছে, যা ধান কাটার কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি ভর্তুকির অনেক হারভেস্টার মেশিন অচল হয়ে পড়ে আছে কিংবা গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বিপদের সময় কৃষকরা কোনো যান্ত্রিক সুবিধা পাচ্ছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বর্তমানে ৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে। তবে কিছু মেশিন নষ্ট থাকায় এবং শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্যান্য এলাকা থেকে শ্রমিক আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: