সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ
‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়, দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই’
সংসদে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করার সুযোগ এবং ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে 'দ্বিমত' প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দেশে পুনরায় এক ধরণের ভয়ের ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। বিকেল ৫টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সংসদীয় পরিবেশ ও ছাত্র রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, "রক্ত ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এই সংসদ গঠিত হলেও আমরা আবার সেই 'দোষারোপের সাইকেলে' ফিরে যাচ্ছি। বিরোধী মত দমনের নামে মামলার সংস্কৃতি এবং ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিরতা তৈরির পুরনো কালচার আবার শুরু হয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সময়ে কেবল 'সহমত' প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল, কিন্তু বর্তমান সংসদে তিনি 'দ্বিমত' প্রকাশের অধিকার চান। ফেসবুকে মত প্রকাশের কারণে সম্প্রতি ৯টি তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন স্যাটায়ার পছন্দ করেন, তখন কেন অন্যদের তুলে আনা হচ্ছে।
ক্যাম্পাসগুলোতে ‘গেস্টরুম’ ও ‘গণরুম’ সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, "ক্ষমতাসীনরা তাঁদের সন্তানদের বিদেশে নিরাপদ রেখে মধ্যবিত্তের সন্তানদের ক্ষমতা কাঠামোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নেতা উৎপাদনের কারখানা না হয়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়া উচিত।" ৩৬শে জুলাইয়ের লড়াইয়ের উদ্দেশ্য ছিল কাঠামোগত পরিবর্তন, কিন্তু ১৭ বছর ধরে নির্যাতিতদের এখনো রাষ্ট্র কিছুই দিতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মানবাধিকার কমিশনকে দুর্বল করা এবং পুলিশ সংস্কার কমিশনের অর্ডিন্যান্স বাতিলের সমালোচনা করে তিনি সরকারকে 'নিয়ত' পরিষ্কার করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি রাজধানীর বাইরে সাধারণ মানুষের লোডশেডিং ও যাপিত জীবনের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র এসি রুমে বসে বোঝা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন। সবশেষে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, এই বিভাজন কেবল পরাজিত শক্তিকেই লাভবান করবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: