তাহিরপুরে লাল শিমুলের ছায়াতলে বসন্তের ছোঁয়া
লাল টকটকে শিমুল ফুলে ছেয়ে গেছে গাছের ডাল। নিচে রঙিন শাড়ি-পাঞ্জাবিতে তরুণ-তরুণী, পরিবার আর পর্যটকদের হাসি। প্রকৃতির বুকেই যেন বসেছে এক উন্মুক্ত উৎসব। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও এলাকার শিমুল বাগান এখন বসন্তের রাঙা আবেশে মুখর।
পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই সেখানে বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানে ভিড় জমাতে থাকেন দর্শনার্থীরা। আয়োজন করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনায় বাগানজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দুপুরের পর পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় মিলনমেলায়।
সিলেট থেকে ঘুরতে আসা শাহিনুর রহমান বলেন, “চারদিকে শুধু লাল আর লাল। শিমুল বাগানের সৌন্দর্য না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।”
পর্যটক নুসরাত জাহান শীলা জানান, “বসন্ত বরণ আর ভালোবাসা দিবস উপভোগ করতে শিমুল বাগানের বিকল্প নেই। তবে যোগাযোগব্যবস্থা আরও ভালো হলে ভালো হতো।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকদের আগমনে বিক্রি বেড়েছে। বসন্ত উৎসব শুধু আনন্দ নয়, এলাকার অর্থনীতিতেও এনেছে গতি।
প্রায় ১০০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এ বাগানে রয়েছে তিন হাজারেরও বেশি শিমুল গাছ। ২০০৩ সালে প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ জয়নাল আবেদিন বাণিজ্যিক ভাবনায় বাগানটি গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুলে-ফলে সমৃদ্ধ হয়ে এটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। একপর্যায়ে এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিমুল বাগান হিসেবে পরিচিতি পায়।
বর্তমান মালিক রাকাব উদ্দিন বলেন, “বাবা প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন। বসন্ত এলেই বাগান লাল হয়ে ওঠে। এবার শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠানের কারণে পর্যটক বেড়েছে। আমরা চাই, এই বাগানকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হোক।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক পাবেল বলেন, “বসন্ত আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকৃতি আর সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন মানুষকে উজ্জীবিত করে।”
ফুল ঝরা দিন পর্যন্ত লাল শিমুলের এই আবেশ থাকবে—এমন প্রত্যাশা নিয়েই প্রতিদিন মানুষ ছুটে আসছেন তাহিরপুরের এই রঙিন বাগানে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: