চুনারুঘাট চা-বাগানে স্কুলের অভাবে থমকে আছে এক প্রজন্ম
Led Bottom Ad

চুনারুঘাট চা-বাগানে স্কুলের অভাবে থমকে আছে এক প্রজন্ম

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুনারুঘাট

০৮/০৫/২০২৬ ১৬:৩০:৫০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সবুজ চায়ের ঢেউখেলানো পাহাড় আর নীরব শ্রমের জীবন—চুনারুঘাট ও আশপাশের চা-বাগানগুলোর প্রতিদিনের চেনা দৃশ্য। কিন্তু সেই সবুজের মাঝেই লুকিয়ে আছে এক কঠিন বাস্তবতা—শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হাজারো শিশু।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার ২৪টি চা-বাগানের মধ্যে ৯টিতে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে এসব বাগানে বসবাসরত চা-শ্রমিক পরিবারের শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।


বৈকুণ্ঠপুর, দেউন্দী, লস্করপুরসহ একাধিক বাগানে গিয়ে দেখা যায়, অনেক শিশুর দিন কেটে যায় চা-পাতা তোলা বা পরিবারের কাজে সাহায্য করে। বই-খাতার বদলে তাদের হাতে থাকে শ্রমের ক্লান্তি। কেউ কেউ অল্প বয়সেই ঝরে পড়ছে শিক্ষার পথ থেকে।


বৈকুণ্ঠপুর চা-বাগানের শ্রমিক রণজিৎ কুমারের কণ্ঠে ক্ষোভ আর হতাশা—“আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করুক। কিন্তু স্কুল নেই, সুযোগ নেই। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজ করছে।”


স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু বাগানে নামমাত্র বেসরকারি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষক, অবকাঠামো বা নিয়মিত পাঠদান নেই। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করলেও তা শেষ করতে পারছে না অধিকাংশ শিশু।


চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “যেখানে একটি গ্রামে একাধিক সরকারি স্কুল থাকে, সেখানে হাজারো মানুষের বসবাস করা চা-বাগানে স্কুল না থাকা শুধু দুঃখজনক নয়, এটি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল।”


এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, চা-বাগানগুলোতে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত।


চা-বাগানের সবুজ ছায়ায় দাঁড়িয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে শিশুদের হাত চায়ের পাতা ছুঁয়ে থাকে, তাদের হাতে কবে ধরা দেবে বই-খাতা? উত্তর খুঁজছে পুরো অঞ্চল, আর অপেক্ষায় আছে এক প্রজন্মের শৈশব।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad