পর্দার আড়ালে এক ‘নিকাবি গ্রুপ’ নিয়ে যতো বিতর্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি “স্বামী উঠতে বললে বসবো, বসতে বললে উঠবো”—এমন বক্তব্যসম্বলিত পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর ‘নিকাবি গ্রুপ’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব গ্রুপে নারীর ভূমিকা, ধর্মীয় ব্যাখ্যা এবং পারিবারিক সম্পর্কের ধরন নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘নিকাবি গ্রুপ’ নামে পরিচিত এই নেটওয়ার্ক কোনো একক সংগঠন নয়। ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক অসংখ্য ছোট-বড় গ্রুপ মিলিয়ে এটি গড়ে উঠেছে। এসব গ্রুপে সাধারণত নিকাব বা কঠোর পর্দা পালনকারী নারীরা যুক্ত থাকেন। শুরুতে ধর্মীয় আলোচনা ও পর্দার বিধান শেখানোর উদ্দেশ্যে এসব গ্রুপ চালু হলেও সময়ের সঙ্গে এর কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটেছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, এসব গ্রুপে বৈবাহিক সম্পর্কে স্বামীর প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের মতে, ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে নারীর স্বাধীন মতামত ও ব্যক্তিসত্তাকে গৌণ করে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। ভাইরাল হওয়া বক্তব্যটিও সেই প্রবণতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ বলছেন, এসব গ্রুপ নারীদের জন্য সহায়তার জায়গা হিসেবে কাজ করে। রক্ষণশীল পরিবার বা সামাজিক পরিবেশে বসবাসকারী অনেক নারী এখানে সমমনা বন্ধু খুঁজে পান এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। পাশাপাশি পর্দাসংশ্লিষ্ট পোশাকের অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রেও এসব গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সমাজবিজ্ঞানী ও নারী অধিকারকর্মীদের কেউ কেউ মনে করেন, ধর্মের একপাক্ষিক বা অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা নারীর ক্ষমতায়নে বাধা হতে পারে। তাঁদের ভাষ্য, ইসলাম নারীর অধিকার ও মর্যাদার যে কাঠামো নির্ধারণ করেছে, তা কেবল অন্ধ আনুগত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ ধরনের প্রচার দীর্ঘমেয়াদে লিঙ্গসমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কেউ একে ব্যক্তিগত ধর্মীয় চর্চার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এ ধরনের প্রবণতা সমাজে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গড়ে ওঠা ‘নিকাবি গ্রুপ’ এখন শুধু ধর্মীয় আলোচনার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে—যার প্রভাব ও দিকগুলো নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: