সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
‘আন্তর্জাতিক’ তকমা থাকলেও সেবার মানে রয়ে গেছে চরম বিশৃঙ্খলা
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের প্রধান প্রবেশদ্বার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার প্রবাসীর পদচারণায় প্রতিদিন মুখর থাকলেও, যাত্রীসেবার মান নিয়ে জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, আন্তর্জাতিক মানের দাবি করা এই বিমানবন্দরটি বাস্তব চিত্রে কোনো বাস টার্মিনালের চেয়ে কম নয়।
প্রতিদিনের চিত্র অনুযায়ী, বিমানবন্দরের বাইরের অংশটি অঘোষিত এক জনসমাবেশে রূপ নেয়। যাত্রীদের বিদায় বা অভ্যর্থনা জানাতে আসা স্বজনদের ভিড় এতটাই অসংগঠিত যে, টার্মিনালের বাইরের পরিবেশ কোনোভাবেই একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে মানানসই নয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতেও বিমানবন্দরের বাইরের এই বিশৃঙ্খল চিত্র ফুটে উঠেছে।
যাত্রীদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ হলো বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ। এয়ারলাইনস স্টাফ, সিভিল এভিয়েশন কর্মী এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের অভাব ও অসহযোগিতার কথা প্রায়ই শোনা যায়। এ ছাড়া কিছু যাত্রীর অতিরিক্ত ওজন বহনের ক্ষেত্রে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পুরো ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হলেও প্রভাবশালী বা ভিআইপিদের জন্য রয়েছে বিশেষ খাতির।
বিমানবন্দরের বাইরেও ভোগান্তির শেষ নেই। ভিক্ষুকদের উপদ্রব এবং গাড়ির দালালদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। বিদেশফেরত যাত্রীরা টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার সময় এসব দালালদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও নারী যাত্রীদের জন্য বাইরে অপেক্ষার কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে স্বজনদের অপেক্ষা করতে হয়।
সিলেট থেকে বর্তমান মন্ত্রিসভায় দুজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী থাকলেও বিমানবন্দরের এই চিরচেনা সমস্যার কোনো দৃশ্যমান সমাধান না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের ভাবমূর্তির প্রতিফলন ঘটায়। তাই জরুরি ভিত্তিতে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, দালাল ও ভিক্ষুকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। প্রবাসী ও স্থানীয়রা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ওসমানী বিমানবন্দরকে সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: