সিলেটে ছড়িয়ে পড়ছে ই-সিগারেট
Led Bottom Ad

সিলেটে ছড়িয়ে পড়ছে ই-সিগারেট

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৬/০৫/২০২৬ ১১:২৯:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট নগরীর অভিজাত শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকার্স মার্কেট—সর্বত্রই এখন প্রকাশ্যে মিলছে ই-সিগারেট বা ভ্যাপ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ‘ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট’-এর ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত। গত ১০ এপ্রিল (২০২৬) জাতীয় সংসদে ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধের প্রস্তাবিত বিধানটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেটের সচেতন মহল ও চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিলেট নগরীর আল হামরা শপিং সিটি, মিলেনিয়াম শপিং মল, ওয়েস্ট ওয়ার্ল্ড, মেইন হকার্স মার্কেট ও বন্দরবাজার এলাকার বেশ কিছু দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভ্যাপ। মানভেদে এসব ভ্যাপের দাম সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে চীনা ও ক্লোন ভ্যাপ। ভ্যাপে ব্যবহৃত ই-লিকুইড বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে। সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর ও তরুণরা দ্রুত এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে।

ই-সিগারেটের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. সরদার বানিউল আহমেদ বলেন, “অনেকে মনে করেন এটি সাধারণ সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর, যা সম্পূর্ণ ভুল। ই-সিগারেটেও নিকোটিন আছে। তরুণরা এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে ফুসফুস ও হৃদরোগের পাশাপাশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।”

হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম আসাদুজ্জামান জুয়েলও মনে করেন, এটি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, ভ্যাপে থাকা ফরমালডিহাইড ও ভারী ধাতু শ্বাসযন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

নগরীর বিপণিবিতানগুলোতে ভ্যাপের প্রকাশ্য বেচাকেনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন। তিনি বলেন, “কম বয়সী ছেলেদের মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে ভ্যাপ টানতে দেখা যায়, যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। আমরা বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই সব মার্কেটের মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে বসব যাতে এটি নিরুৎসাহিত করা যায়।”

এদিকে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটওয়ারী। তিনি বলেন, “ই-সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর হলেও এটি এখনো আমাদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিষয়টি সিডিউলভুক্ত করতে আমরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করেছি।”

সংসদে নিষিদ্ধের বিধান বাতিল হওয়ার পর সিলেটে ভ্যাপের বাজার আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সমাজকর্মীরা। দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে এসব ক্ষতিকর পণ্য নিষিদ্ধ করা না হলে আগামী প্রজন্ম এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad