প্রশাসককে স্মারকলিপি
চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় সিসিকের শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় চাকরি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী। এই উদ্বেগ নিরসনে এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে মঙ্গলবার (৫ মে) সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মীরা।
প্রকল্পের ১১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে দুপুরে সিসিক প্রশাসকের কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে জানানো হয়, ২০০৭ সাল থেকে সিসিক এলাকায় নগর মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নিয়মিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। মাতৃসেবা ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ গুরুত্বপূর্ণ এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের মুখে জনবলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া গত কয়েক মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকলেও কর্মীরা নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে কর্মীরা সিসিকের বর্ধিত এলাকায় বিদ্যমান জনবলকে সমন্বয় করে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
এ সময় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী স্বাস্থ্যকর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে, তবে কোনো সেবাকেন্দ্র বন্ধ হবে না। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেবাকেন্দ্রের কার্যক্রম এবং কর্মরতদের চাকরি—উভয়ই বহাল থাকবে। কারো চাকরি যাওয়ার আশঙ্কা নেই।” তিনি কর্মীদের নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান এবং সরকার স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে উল্লেখ করেন।
সিসিক প্রশাসকের এই আশ্বাসের পর কর্মীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, দ্রুত হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং বকেয়া বেতন প্রাপ্তির বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: