“চার বছর পর কবর ধস, অক্ষত মরদেহ দেখে স্তব্ধ রাজনগর”
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ডেফল উড়া গ্রামের দেওয়ান দিঘিরপাড়—নীরব, শান্ত একটি জনপদ। কিন্তু টানা বৃষ্টিপাতের পর হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক ঘটনাই বদলে দিয়েছে সেই নীরবতা। কবর ধসে চার বছর আগে দাফন করা এক ব্যক্তির মরদেহ মাটির নিচ থেকে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, আর মুহূর্তেই এলাকায় নেমে আসে বিস্ময় আর কৌতূহলের ঢেউ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটির স্তর নরম হয়ে গিয়ে প্রবীণ মুরুব্বী আব্দুল মোনাফের কবরের একাংশ ধসে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে তার মরদেহ। আশ্চর্যের বিষয়, চার বছর আগে দাফন করা হলেও মরদেহটি এখনো অনেকটাই অক্ষত রয়েছে বলে দাবি করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করে। কেউ নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকেন, কেউ বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন, আবার কেউ ফিসফিসিয়ে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা খোঁজেন এই ঘটনার। পুরো এলাকাজুড়ে যেন এক ধরনের ভারী নীরবতা নেমে আসে—যেখানে মিশে আছে ভয়, কৌতূহল আর অজানা অনুভূতির এক অদ্ভুত সমন্বয়।
গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় চার বছর আগে যথাযথ ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে তাকে দাফন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এমন দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ দেখছেন এটিকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে, কেউ আবার ভাবছেন প্রকৃতির অপ্রত্যাশিত খেলায় ঘটে যাওয়া একটি বাস্তব ঘটনা হিসেবেই। তবে স্থানীয়দের মতে, কবরস্থানটির সুরক্ষা এবং মরদেহটির যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
নীরব গ্রামের বুকে হঠাৎ করে এমন এক ঘটনা যেন মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি আর সময়ের কাছে মানুষ কতটা অসহায়, আর কত অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে আমাদের চারপাশেই।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: