সিলেটে নতুন বিতর্কের জন্ম
সিসিক প্রশাসকের করমর্দন এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে তোলপাড়
সিলেটে হযরত শাহজালাল দরগাগ–এর বার্ষিক ওরশে গরু দান করতে গিয়ে এবার গরুর চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ‘অমিলানো হাত’। আর সেই হাত না মেলানোর ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে সৌজন্যবোধ, রাজনীতি আর ‘মানবিকতা’র নতুন বিতর্ক।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি মাজারে পৌঁছানোর পর এক নিরাপত্তাকর্মী করমর্দনের জন্য হাত বাড়ান। কিন্তু ভিডিওতে দেখা যায়, প্রশাসক সাহেব হাত না মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান। ব্যস! সিলেটের রাজনৈতিক আড্ডা থেকে ফেসবুকের টাইমলাইন—সবখানে শুরু হয়ে যায় বিশ্লেষণের বন্যা। যেন রাষ্ট্রীয় কূটনীতির কোনো বড় সংকেত দিয়ে ফেলেছেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন সিলেটের ব্যবসায়ী Mobasshir Ali। ভদ্র ভাষায় শুরু হলেও পোস্টের ভেতরে ছিল সূক্ষ্ম খোঁচা, রাজনৈতিক ইঙ্গিত আর সামাজিক বার্তার মিশেল। তিনি লিখেছেন, মে দিবসে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা নেতাদের অন্তত একজন নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে হাত মেলাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তার বক্তব্য, “একটি করমর্দনও বড় বার্তা বহন করে।” তবে সিলেটবাসীর অনেকে বলছেন, এখনকার রাজনীতিতে বার্তার চেয়ে ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ই বড়। কে কার দিকে তাকালেন, কে তাকালেন না—এসব নিয়েই যেন নতুন রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দাঁড়িয়ে যায়।
ফেসবুক পোস্টে আরও এক ধাপ এগিয়ে মবশ্বির আলী মন্তব্য করেন, একই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা হলে হয়তো নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছবি তুলতেন, পরে সেটি ফেসবুকেও পোস্ট হতো। এই তুলনার পরই শুরু হয় পাল্টা সমালোচনা। কেউ বলছেন, “একটা করমর্দন নিয়ে এত নাটক কেন?” আবার কেউ বলছেন, “জনপ্রতিনিধিদের আচরণই তো তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আয়না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, “সিলেটে এখন হাত মেলানোও রাজনৈতিক কর্মসূচি।” আরেকজনের মন্তব্য, “আগে মানুষ ভোট চাইত হাত ধরে, এখন হাত না ধরাই খবর।”
তবে পুরো ঘটনায় সবচেয়ে নীরব সেই নিরাপত্তাকর্মী। তিনি কিছু বলেননি। কিন্তু তার বাড়িয়ে দেওয়া হাত এখন সিলেটের অনলাইন রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ‘হাত’ হয়ে গেছে।
রাজনীতিতে বড় সংকট, অর্থনীতি, বন্যা বা জনদুর্ভোগ নিয়ে যত আলোচনা হয় না, তার চেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক এখন একটি করমর্দনকে ঘিরে। এতে অন্তত এটুকু পরিষ্কার—বাংলাদেশের রাজনীতিতে হাত মেলানো শুধু সৌজন্য নয়, কখনো কখনো সেটিও হয়ে ওঠে মতাদর্শের প্রশ্ন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: