২০২৫-এর চেয়ে বেশি লক্ষ্য ২০২৬ সালে
সিলেটে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি
সিলেট বিভাগে ২০২৬ বোরো মৌসুমে সরকারি ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় এবার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, এবারের সংগ্রহ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
খাদ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ মৌসুমে সিলেট বিভাগে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৬৯৪ মেট্রিক টন, যা ২০২৫ সালের ৩২ হাজার ৪৬৩ মেট্রিক টনের চেয়ে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন বেশি। চাল সংগ্রহেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে চাল সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল ৫২ হাজার ১৫১ মেট্রিক টন, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৩৫৪ মেট্রিক টনে।
সংগ্রহ কার্যক্রমে বরাবরের মতো সুনামগঞ্জ জেলা শীর্ষে রয়েছে। জেলাভিত্তিক ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাগুলো হলো:
সুনামগঞ্জ: ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন (বিভাগের মোট লক্ষ্যের প্রায় অর্ধেক)
হবিগঞ্জ: ৮ হাজার ৯০ মেট্রিক টন
সিলেট: ৮ হাজার ২৫১ মেট্রিক টন
মৌলভীবাজার: ৬ হাজার ৪ মেট্রিক টন
বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালেও ধানের সংগ্রহ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে ধানের মূল্য কেজিপ্রতি ৩২ টাকা থাকলেও ২০২৫ ও ২০২৬ সালে তা ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চালের ক্ষেত্রে সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা কেজি দরে কেনা হচ্ছে।
হাওর এলাকায় ধান সংগ্রহের কাজ ৩ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। অন্যদিকে নন-হাওর এলাকায় ১৫ মে থেকে সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, “উৎপাদন ভালো হলেও সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে অনেক সময় প্রকৃত কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করলে তবেই এর সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাবে।”
সিলেট আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: