বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
সুনামগঞ্জে হানি ট্র্যাপে জড়িত সরকারি কর্মচারী অজিত বরখাস্ত
সুনামগঞ্জে 'হানি ট্র্যাপ' সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার দায়ে তাহিরপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের অফিস সহায়ক অজিত চন্দ্র দাসকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, তাহিরপুর উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে কর্মরত থাকাবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর থানায় দায়েরকৃত একটি পর্নোগ্রাফি মামলায় অজিত চন্দ্র দাস গ্রেপ্তার হওয়ায় সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী তাঁকে পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে সুনামগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় হানি ট্র্যাপ চক্রের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। এই চক্রের সদস্যরা টার্গেট করা ব্যক্তিদের কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে বিবস্ত্র করে মারধর ও ভিডিও ধারণ করত। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বড় অংকের চাঁদা দাবি করত।
এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ এপ্রিল পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের ধোপাখালী এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি কর্মচারী অজিত দাস এবং জামালগঞ্জের তরুণী তুলনা আক্তারকে আটক করে। ওই ব্যবসায়ীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পর ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে দফায় দফায় টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল এই চক্রটি।
অজিত ও তুলনার আটকের খবর গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর ২০ এপ্রিল আরও এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পুলিশের দ্বারস্থ হন। তিনি জানান, একই কায়দায় ট্র্যাপে ফেলে তাঁর কাছ থেকে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র।
পুলিশের ধারণা, লোকলজ্জার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী এখনও মুখ খুলছেন না। এই চক্রের পেছনে আরও রাঘববোয়াল জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অজিত দাসকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের নারী সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: