অভিভাবকের খোঁজে পুলিশ
সুনামগঞ্জে আদালতে বিয়ে করতে এসে শ্রীঘরে কিশোর-কিশোরী
ফোনে পরিচয়, তারপর প্রেম। দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্কের টান থেকে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে সুনামগঞ্জ আদালতে বিয়ে করতে এসেছিল এক কিশোর-কিশোরী। কিন্তু আইনত বিয়ের বয়স না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের ঠাঁই হয়েছে থানা হেফাজতে। বুধবার (৬ মে) সুনামগঞ্জ জেলা আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আটক কিশোর হোসেন (১৭) সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে কিশোরী রুবি (১৬) সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দক্ষিণ কালনীচর গ্রামের মেয়ে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ওই কিশোর-কিশোরী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করতে আদালতে আসে। তবে কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায় দুজনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য ছেলের বয়স সর্বনিম্ন ২১ এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। আইনজীবী তাদের বিয়ের আইনি বৈধতা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পরে আদালত থেকে তাদের সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ তাদের ফেসবুক পেজে কিশোর-কিশোরীর নাম-পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করে অভিভাবকদের সন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট দেয়। মুহূর্তেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ জানান, "আদালতে বিয়ে করতে আসা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। আমরা তাদের প্রকৃত অভিভাবকদের খোঁজার চেষ্টা করছি। অভিভাবকদের পাওয়া গেলে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উল্লেখ্য, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়ে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অমান্য করে বিয়ে দেওয়া বা আয়োজন করার অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: