২০ বছর ধরে সংস্কারহীন অনেক পথ
কুলাউড়ায় অর্ধশতাধিক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে। দীর্ঘ ৫ থেকে ২০ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় উপজেলার অর্ধশতাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পিচ ও ইট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া অসংখ্য খানাখন্দ এখন একেকটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। সড়কগুলোর এই বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পিচঢালা পথগুলো এখন মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে যানবাহন চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। এর আগে সড়কগুলো মেরামতের দাবিতে মানববন্ধন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো ফল মেলেনি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লস্করপুর-লক্ষ্মীপুর সড়ক, শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক, কটারকোনা-হাজীপুর ইউপি অফিস সড়ক এবং কুলাউড়া সদর-ফুলেরতল-নবাবগঞ্জ সড়কের কার্পেটিং পুরোপুরি উঠে গেছে। বড় বড় গর্তের কারণে রিকশা বা অটোরিকশা তো দূরের কথা, সাধারণ পথচারীদের হাঁটাও দায় হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব পথ পাড়ি দিচ্ছে। কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়ছেন।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকারকে প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্ব দিলেও চলাচলের জন্য নূন্যতম ভালো সড়ক পাচ্ছি না। ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিমাসে উপার্জনের বড় অংশই চলে যায় গাড়ি মেরামতের পেছনে।" কোনো কোনো এলাকায় অতিষ্ঠ চালক ও এলাকাবাসী মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের গর্ত ভরাট করে সাময়িক চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন।
কুলাউড়া এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকায় রয়েছে— সদর ইউনিয়নের লস্করপুর-লক্ষ্মীপুর সড়ক, রাউৎগাঁওয়ের চৌধুরীবাজার-কালিটি সড়ক, পৃথিমপাশা ও কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব রবিরবাজার-কর্মধা সড়ক, টিলাগাঁও ইউনিয়নের টিলাগাঁও-বাগৃহাল সড়ক, ভাটেরার ভাটেরা-সিংহনাথ সড়ক এবং কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর-আমতৈল সড়ক। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাজার, জয়চণ্ডী, হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নেরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লিং রোড ও সিসি ঢালাই সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, “কুলাউড়ার অনেকগুলো সড়ক সংস্কার করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ছয়টি সড়ক মেরামতের কাজ চলমান আছে। বাকি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী জুন মাসের পর মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে দ্রুতই মেরামত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: