‘ম্যাজিকম্যান’ এর ফের ম্যাজিক: এবার যাত্রা জাতীয় রাজনীতিতে
তাকে বলা হতো সিলেটের ‘ম্যাজিকম্যান’। কারণ, প্রতিকূলতা যতই আসুক—নিজের ব্যক্তিত্ব, কৌশল আর মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের টানে তিনি বারবার বাজিমাত করেছেন। তিনি আরিফুল হক চৌধুরী—সিলেটের রাজনীতির এক পরিচিত, আলোচিত ও আবেগঘন নাম।
অথচ শুরুটা ছিল ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে। ২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন-এর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে রাজনৈতিক পথচলা শুরু। তখন হয়তো কেউ ভাবেনি, এই তরুণ সংগঠক একদিন পুরো সিটিকেই নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু তিনি আলাদা ছিলেন—উন্নয়ন ভাবনায়, পরিকল্পনায়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারে। একই সাথে ছিলেন নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান। দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা আর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মিশেলে তিনি হয়ে ওঠেন শহর রাজনীতির এক সম্ভাবনাময় মুখ।
ওয়ান-ইলেভেনের উত্তাল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছে। অনেকেই যেখানে থেমে যান, সেখানে তিনি থামেননি। প্রতিকূল সময়কে পুঁজি করে আরও শক্তভাবে ফিরে আসেন রাজনীতির ময়দানে। তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলেন, এখানেই তাঁর ‘ম্যাজিক’—ভেঙে না পড়ে, আরও দৃঢ় হয়ে ওঠা।
কামরানকে হারিয়ে মেয়র
২০১৩ সালের সিসিক নির্বাচন ছিল টার্নিং পয়েন্ট। প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান-এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অনেকেই সংশয়ে ছিলেন। কিন্তু ফলাফল জানিয়ে দিল—সিলেট নতুন নেতৃত্ব চায়। আরিফুল জয়ী হলেন, হয়ে উঠলেন সিলেটের মেয়র।
পরবর্তী নির্বাচনেও মানুষের আস্থা ধরে রেখে দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব নেন। তাঁর মেয়াদকালে সড়ক সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন দখলে থাকা ছড়া-খাল উদ্ধারের উদ্যোগ শহরবাসীর প্রশংসা কুড়ায়। সমর্থকদের ভাষায়—“তিনি শুধু মেয়র ছিলেন না, ছিলেন শহর বদলের কারিগর।”
শহর ছেড়ে নতুন চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক কৌশলের নতুন অধ্যায় শুরু হয় যখন তাঁকে নিজ শহরের বাইরে প্রার্থী করা হয় সিলেট-৪ আসনে। অনেকেই ভাবছিলেন—নিজের ঘাঁটি ছাড়া কি তিনি পারবেন?
কিন্তু আবারও ম্যাজিক। স্বল্প সময়ে মাঠে নেমে তিনি ছিনিয়ে আনেন বিজয়। প্রমাণ করেন—তাঁর জনপ্রিয়তা কেবল একটি শহরে সীমাবদ্ধ নয়, ছড়িয়ে আছে বৃহত্তর পরিসরে।
আবেগ, আস্থা আর অর্জনের গল্প
১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া আরিফুল ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি যেমন সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তেমনি পেয়েছেন মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা। তাঁর ভাষায়, “জনগণের আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
কাউন্সিলর থেকে মেয়র, আর এখন জাতীয় সংসদের প্রতিনিধি—এই যাত্রা কেবল রাজনৈতিক সাফল্যের গল্প নয়; এটি প্রত্যাবর্তনের গল্প, বিশ্বাসের গল্প, মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার গল্প।
সিলেট আজ তাকে দেখে নতুন স্বপ্ন বুনছে। ‘ম্যাজিকম্যান’ আবারও প্রমাণ করলেন—রাজনীতিতে শেষ কথা বলে মানুষের ভালোবাসা।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: