সীমান্ত এলাকায় মাইকিং
তাহিরপুরে ধান কাটাতে শুল্ক স্টেশন ও যাদুকাটা নদী বন্ধ ঘোষণা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে শ্রমিক সংকট নিরসনে এক ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আমদানিকারক সমিতি। উপজেলার শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর ও মহালিয়া হাওরসহ সব বড় হাওরের ধান দ্রুত ঘরে তুলতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী স্থল শুল্ক স্টেশনের সব ধরনের কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী সীমান্ত এলাকায় এ সংক্রান্ত মাইকিং করা হয়।
তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি খসরুল আলম জানান, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের পরামর্শক্রমে এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সীমান্তের তিনটি শুল্ক স্টেশন বন্ধ থাকার ফলে সেখানকার প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক সরাসরি হাওরে ধান কাটার কাজে যুক্ত হতে পারবেন, যা বর্তমান সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে।
একই সাথে জেলার বৃহৎ বালু-পাথরমহাল যাদুকাটা নদীতেও বালু উত্তোলন ১ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “হাওরের কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল যেন শ্রমিক সংকটে নষ্ট না হয়, সেজন্যই যাদুকাটা নদী ও তিন শুল্ক স্টেশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আশা করছি, এর ফলে এ বছর হাওরে আর কোনো শ্রমিক সংকট থাকবে না।” প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হাওরপাড়ের হাজার হাজার কৃষক। তারা মনে করছেন, বাড়তি শ্রমিকের যোগান পাওয়ায় পাহাড়ি ঢল বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই নিরাপদে ধান গোলায় তোলা সম্ভব হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: