ইতিহাসের ভয়াবহতম জ্বালানি সংকটে বিশ্ব: আইইএ প্রধানের সতর্কবাণী
চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। বিরোল বলেন, “পেট্রোল ও গ্যাস সংকটের প্রভাব এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এই সংকট ইতোমধ্যেই বিশাল আকার নিয়েছে। এটি সত্যিই ইতিহাসের বৃহত্তম সংকট।”
আইইএ প্রধান উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭৩ এবং ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক তেলের সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ১১ মিলিয়ন ব্যারেল কমে গেছে, যা অতীতের যেকোনো বড় ধাক্কার চেয়েও বেশি। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই সংকটের কারণে ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুদ আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের উপক্রম হতে পারে।
এই নজিরবিহীন অস্থিরতা সামাল দিতে গত মার্চ মাসে আইইএ-এর ৩২টি সদস্য দেশ তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি আইইএ-এর ইতিহাসের বৃহত্তম সমন্বিত পদক্ষেপ। ফাতিহ বিরোল জানান, এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায়, এই সংকট বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ও শিল্পোৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: