৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা
সুনামগঞ্জের হাওরে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ফসল কাটা
বোরো ফসলের ভান্ডার হিসেবে খ্যাত সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নতুন বছরের শুরুতেই উৎসবমুখর পরিবেশে ধান কাটা শুরু হয়েছে। জেলার ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরের বিশাল প্রান্তরে এখন সোনালি ফসলের সমারোহ। কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের পাশাপাশি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে দ্রুত ধান কাটার জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার মেশিনের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে এবং প্রায় ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার আগাম জাতের ধানের ফলন বেশ সন্তোষজনক। সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম জানান, তিনি কানলার হাওরে বি-আর ২৮ জাতের ধানে প্রতি কিয়ারে (৩০ শতাংশ) ১২-১৪ মণ এবং বি-আর ৮৮ জাতের ধানে ১৬-১৮ মণ ফলন পেয়েছেন। শাল্লা উপজেলার ডুমরা গ্রামের কৃষক সুধাকর দাস হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করে প্রতি বিঘায় ২০ মণ ফলন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তাহিরপুরসহ কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা উদ্বেগের মধ্যে থাকলেও নালা কেটে ও পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে ফসল রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, "সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে সব হাওরে ধান কাটা চলবে।" তিনি আরও জানান, ধান কাটার গতি বাড়াতে জেলায় ৬২৭টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ১৪৬টি রিপার মেশিন সচল রয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যেসব জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে সেগুলো যেন দ্রুত কেটে ঘরে তোলা হয়। উল্লেখ্য, জেলার ১০ লক্ষ স্থানীয় শ্রমিকের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার মৌসুমি শ্রমিক এখন সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে অনুকূল আবহাওয়ায় নির্বিঘ্নে ফসল ঘরে তুলতে পারলে এ বছর সুনামগঞ্জের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: