সুনামগঞ্জে চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানিযোগ্য পশু, লক্ষ্য ৪০০ কোটির বাজার
Led Bottom Ad

সুনামগঞ্জে চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানিযোগ্য পশু, লক্ষ্য ৪০০ কোটির বাজার

প্রীতম দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

২২/০৫/২০২৬ ১৫:০৮:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলায় এবার চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় পশুর সার্বিক চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ৪৯৪টি। এর বিপরীতে কোরবানিযোগ্য দেশি পশু প্রস্তুত আছে ৫৩ হাজার ৪০১টি। ফলে চাহিদা মিটিয়েও জেলায় প্রায় ২ হাজার ৯০৭টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০০ কোটি টাকারও বেশি।


জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে ২১ হাজার ১৭৬টি ষাঁড়, ১১ হাজার ৮৯৭টি বলদ, ৬ হাজার ৮৪১টি গাভী, ৪১৫টি মহিষ, ৭ হাজার ৯৬৩টি ছাগল এবং ৪ হাজার ২২২টি ভেড়া রয়েছে।


উদ্বৃত্ত পশুর দিক থেকে জেলায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাতক উপজেলা, যেখানে ৩ হাজার ৪১৭টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত আছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ সদরে ২ হাজার ২১৯টি, দিরাইয়ে ৩৫৫টি, দোয়ারাবাজারে ২৭২টি, ধর্মপাশায় ১২৩টি, শাল্লায় ৮৫টি এবং জগন্নাথপুরে ৮১টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। অন্যদিকে জামালগঞ্জে ২ হাজার ৬৫৫টি, তাহিরপুরে ১ হাজার ১২৪টি এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৯৮টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী উপজেলার উদ্বৃত্ত পশু দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।


খামারি ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটে পর্যাপ্ত দেশি পশু থাকায় এবং দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় বেচাকেনা ভালো হওয়ার আশা করা হচ্ছে। চোরাই পথে ভারতীয় গরুর অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি থাকায় স্থানীয় খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা এবার পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা করছেন। বর্তমানে পশুর আকারভেদে মাঝারি ও বড় আকারের গরু সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ছাগল ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ভেড়া ৪ থেকে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।


প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, জেলাজুড়ে বর্তমানে নিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ৭৩৭টি। কোরবানি উপলক্ষে এবার জেলায় মোট ৬০টি পশুর হাট বসছে, যার মধ্যে স্থায়ী হাট ২৬টি এবং অস্থায়ী ৩৪টি। হাটে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং জরুরি চিকিৎসায় সার্বক্ষণিকভাবে ১৯টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম নিয়োজিত রাখা হয়েছে।


সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম সিলেটকে বলেন, এ বছর জেলায় সুস্থ-সবল পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় পশুর খুরা রোগ দেখা দিলেও তা এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাই শঙ্কার কোনো কারণ নেই।


সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু অনুপ্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ গৃহস্থ ও খামারিরা যাতে আর্থিক লোকসানে না পড়েন, সে জন্য প্রশাসনের সহায়তায় সীমান্তে সর্বোচ্চ নজরদারি চালানো হচ্ছে। চোরাই পথে ভারতীয় গরু আসার খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান চালিয়ে জড়িতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad