নবীগঞ্জে মসজিদের ছাদে পল্লীচিকিৎসকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামে একটি মসজিদের ছাদের রেলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আব্দুস শহীদ (৩৫) নামের এক স্থানীয় পল্লীচিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ; ঘটনাস্থল থেকে নিহতের চার পৃষ্ঠার একটি আবেগঘন ডায়েরি বা চিরকুট, ধর্মীয় পবিত্র গ্রন্থ ও তসবিহ জব্দ করা হয়েছে। নিহত আব্দুস শহীদ গালিমপুর গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে এবং তিনি স্থানীয় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধিত পল্লীচিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছিলেন। পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার পবিত্র আসরের আজানের পর স্থানীয় সাধারণ মুসল্লিরা গালিমপুর জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে মসজিদের ছাদের রেলিংয়ের সঙ্গে ওপরে শহীদের মরদেহ ঝুলতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন; পরে খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের দ্রুত একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নিচে নামিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে নিহতের স্ত্রী প্রায় ছয় মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান এবং এরপর থেকেই সন্তানহীন এই পল্লীচিকিৎসক গভীর মানসিক বিষণ্ণতা ও চরম একাকিত্বে ভুগছিলেন, যার কারণে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন।
ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চার পৃষ্ঠার চিরকুটে নিহত শহীদ তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচিতজনদের নিয়ে বিভিন্ন আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন এবং তাঁর এই মৃত্যুর জন্য দুনিয়ার কোনো মানুষকে দায়ী না করার কথা পরিষ্কারভাবে লিখে গেছেন; তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনি প্রক্রিয়া মেনে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছিল এবং ময়নাতদন্তের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ শনিবার সন্ধ্যায় মরদেহটি দাফনের জন্য তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: