২০৩০ বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি ইউরোপের দেশগুলোর
বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নতুন কাঠামোর আওতায় আনার ফিফার পরিকল্পনা ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির প্রস্তাবিত নতুন কোম্পানি গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। এমনকি প্রতিবাদ হিসেবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার নতুন বাণিজ্যিক কাঠামোর বিরোধিতা করে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে উয়েফাভুক্ত কয়েকটি দেশ। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ফিফার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে এই প্রতিষ্ঠানের ওপর।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, নতুন কোম্পানিটির সম্ভাব্য মূল্য হতে পারে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলারের সংখ্যালঘু শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ফিফার কাছেই থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে এই উদ্যোগকে সহজভাবে নিচ্ছে না উয়েফা। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার এই পদক্ষেপ ফুটবল পরিচালনার নীতিগত সীমা অতিক্রম করছে। আর্থিক সুবিধাভোগী কারা হবে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উয়েফার বক্তব্য, ফুটবল শুধু কোনো বাণিজ্যিক সম্পদ নয়; এর সঙ্গে ঐতিহ্য, সমর্থক এবং খেলাটির নিজস্ব মূল্যবোধ জড়িত। তাই ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ফিফা তাদের পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে সদস্য ফেডারেশনগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং নতুন কাঠামোর মাধ্যমে সেই সহায়তা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বিনিয়োগ তাদের সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পনসরশিপ থেকে আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। এর ফলে পুরুষ, নারী ও বয়সভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
তবে ফিফা ও উয়েফার এই বিরোধ বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক স্পেন ও পর্তুগালের অবস্থান এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটির ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আয়োজন ঘিরে পরিস্থিতির গতিপথ।
রত্না বাউরী
মন্তব্য করুন: