পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম শনিবার চূড়ান্ত হতে পারে
সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ হচ্ছে প্রেসিডেন্ট। ২৪ জুলাই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে মো.সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়বস্তু পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হয়ে বঙ্গভবনে কে যাচ্ছেন? সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট পদ কার্যত অলংকারিক। ক্ষমতাসীন সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী সবকিছু করতে হয়। কিন্তু সম্মানের দিকে দিয়ে বঙ্গভবনের ওই পদ খুবই মর্যাদাপূর্ণ। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ১৮ জন প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনে গেছেন; এদের ১২ জনকে মেয়াদ পূর্তির আগে বঙ্গভবন ছাড়তে হয়েছে অসম্মানজনকভাবে। দায়িত্ব পালনের পর বঙ্গভবন থেকে স্বাভাবিক ভাবে বিদায় নিয়েছেন মাত্র ৪ জন প্রেসিডেন্ট। তারপরও কোন সৌভাগ্যবান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে কে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন সেটাই এখন রাজনীতিতে আলোচ্য বিষয়। পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী কোনো কারণে প্রেসিডেন্ট পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগামী আগস্ট মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বর মাসের সংসদ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’। ২৮ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে ইসির একটি প্রতিনিধি দল দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,‘প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত’।রাজনৈতিক বিতর্কের ফোরাম
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের সময় থেকেই প্রেসিডেন্ট পদে সম্ভাব্য অনেকের নাম আলোচনায় আসে। তবে ২৪ জুলাই মো. সাহাবু্িদ্দনের পদত্যাগের পর পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচিত হচ্ছে। আলোচিত নামগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে বিএনপির মহাসচিব স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। এছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীণ রাজনীতিক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম প্রথমেই আলোচনায় এসেছে। বিএনপির বাইরেও জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, ‘জাতীয় অধ্যাপক’ প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ’র নাম আলোচনায় রয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের নাম চূড়ান্ত করা হবে।
আগামীতে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। তারেক রহমানের পর বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজনীতিক হিসেবে তিনি, পরিচ্ছন্ন, ব্যক্তিত্ববান, মডারেট, সদাচারী, সুবক্তা এবং দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা, শিক্ষা ক্যাডারে শিক্ষকতা, জাতীয় ব্যক্তিত্ব হওয়ার আগে নির্বাচিত পৌরসভা চেয়ারম্যান, দুইবার প্রতিমন্ত্রী এবং জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা এস এ বারি এটির পিএস ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রকে শুধু শীর্ষ পর্যায় থেকে নয়, একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকেও চেনেন। বিএনপির কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায় নেতাকর্মীদের তিনি চেনেন জানেন। বিএনপি মহাসচিব হওয়ায় তিনি নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত থাকতে অভ্যস্ত। অথচ প্রেসিডেন্ট পদ বঙ্গভবন কেন্দ্রিক অলংকারিক। সামনে সারাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশনের দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন তার মতো সুচারুভাবে কেউ করতে পারবে না। সামনে বিএনপির প্রয়োজনেই বহুবিধ কর্মযজ্ঞ তার হাতে। মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হওয়ায় গ্রামীণ উন্নয়নে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা আগামী নির্বাচনে কাজে লাগবে। তার ভূমিকা স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হবে। সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সবচেয়ে প্রশংসিত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে একই পরিবারে দু’জনকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে না বসানো। ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রেসিডেন্ট হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তার ভাই এবং মেয়েকে প্রার্থী করা হবে নাকি দলের অন্য কোনো যোগ্য নেতাকে প্রার্থী করা হবে; প্রার্থী করলেই আসনটি ঝুঁকির মুখে পড়বে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ঢাকা থেকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদের একডজন নেতাকে নিয়ে গিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে বিপুল সংখ্যক হিন্দু ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হলেও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতায়াতের দেলোয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। শিবিরের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে আওয়ামী লীগ শাসনামলে যে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছে তা সারাদেশের মানুষকে কাঁদিয়েছে। ফলে মির্জা ফখরুল প্রেসিডেন্ট হলে ওই আসন বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। তাছাড়া দীর্ঘ দেড় যুগ ক্ষমতার বাইরে থেকে ৫ মাস আগে ক্ষমতায় আসা বিএনপির রাজনীতির জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অপরিহার্য নেতায় পরিণত হয়েছেন। দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে নিয়ে বঙ্গভবনে অলঙ্কারিক পদে বসালে ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মর্যাদা বাড়বে বৈকি; দল হিসেবে বিএনপি তার সুযোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হবে। অবশ্য ২৮ জুলাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও বলেছেন, কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট’ এমন সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আমার প্রেসিডেন্ট হওয়ার গুজবে কান দেবেন না।
পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে মির্জা ফখরুলের পরেই যার নাম তিনি হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। নিজ নির্বাচনি এলাকা কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে কয়েকবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বিএনপির সবচেয়ে বয়স্ক এই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে শিক্ষকতা ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন। শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে দলের ভেতরেও তিনি সম্মানিত। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার বাবা আবদুল মোমেন খান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, এমপি ও বিএনপির খাদ্যমন্ত্রী। মঈন খান এক সময় বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার রাজপথের সক্রিয়তা এবং কূটনৈতিক মহলে যোগাযোগ তাকে বিএনপির একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অনেকেই বলছেন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের পরই মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ড. আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় ছিল। প্রশাসনিক দক্ষতায় ঝানু এবং সিনিয়র এই নেতাকে কোনো মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়নি প্রেসিডেন্ট পদে বসানোর বিবেচনার কারণে।
সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানাধীন কুলকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা নজরুল ইসলাম খান ১৯৭০-এর দশকে শ্রমিক আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি তৎকালীন পাকিস্তান মেশিন টুলস কারখানার (বর্তমান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী) শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপির শাসনামলে ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি কুয়েতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান।
সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানের নামও আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের চাচাতো বোন আইরিন খান আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। চলতি মাসে সরকার প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় তাকে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি ১৯৭৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস-এর অধীনে মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮০ সালে জাতিসংঘের শরণার্থী প্রকল্প বিভাগে যোগ দেন। জাতিসংঘে প্রথমে লিগ্যাল অফিসার ও পরে উপপরিচালক হিসেবে ২০ বছর চাকরি করেন। আইরিন যখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে যোগ দেন তখন ২০০১ সাল। সংস্থা থেকে নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে বৈশ্বিক প্রচারণা চালিয়েছেন আইরিন খান। মানবাধিকার রক্ষায় নারীর প্রতি ন্যায়বিচার, আইনের সুশাসন, তথ্য অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে তার কাজ উল্লেখযোগ্য। জাতিসংঘের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বেশ কয়েকটি দেশে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করেন।
এ সাপ্তাহেই জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহর নামও পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির থিঙ্কট্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৫ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া মাহবুবউল্লাহ বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের মানুষ। তাঁর কর্মজীবন সক্রিয় রাজনীতি থেকে অধ্যাপনা ও গবেষণা পর্যন্ত বিস্তৃত। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী নেতা। ১৯৭০-এর ২২ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলার কর্মসূচি উত্থাপন করায় ইয়াহিয়ার সামরিক আদালতে তার কারাদ- হয়েছিল। রাজনৈতিক জীবনে তিনি মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, আতাউর রহমান খান, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, মোহাম্মদ তোয়াহা, কমরেড আবদুল হক, কমরেড সুখেন্দু দস্তিদার, কমরেড দেবেন সিকদারের সাহচর্য পেয়েছেন। ১৯৭২ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সম্পাদকম-লির সদস্য ছিলেন। জাতীয়তাবাদী চিন্তা-ভাবনার আর্থ-সামাজিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিক ভিত্তি নির্মাণ এবং গবেষণাধর্মী তার প্রচুর বই রয়েছে। ১৯৭৬ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও ২০০৬ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে নিয়োজিত থেকে অবসরে যান। পরবর্তী সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন। তিনি রাজস্ব সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রো-ভিসির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নামও পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
সরকারের দায়িত্বশীলদের মতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দেয়া হবে এবং সেপ্টেম্বর মাসে সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ত্যাগের পর থেকে বঙ্গভবনের বাসিন্দা কে হচ্ছেন তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় এসেছে তা সবই অনুমান নির্ভর। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে আগামী শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহবান করা হয়েছে। ওই বৈঠকে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কে হবে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে মো.সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি চূড়ান্ত করতে আলোচনার জন্যই স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। এই বৈঠকে আলোচনার পাশাপাশি সিদ্ধান্তও হতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী মনোনীত করার পর সংসদের আগামী অধিবেশনে এমপিদের ভোটে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে কে বঙ্গভবনে যান সেটা দেখার জন্য দেশবাসী অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: