কাগজে-কলমে নানা উদ্যোগ, বাস্তবে যানজটে জিম্মি হবিগঞ্জ শহর
হবিগঞ্জ শহরে যানজটের ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তৈরি হচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন। বিশেষ করে আসন্ন ঈদকে ঘিরে কেনাকাটা ও ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় শহরের ট্রাফিক পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম), যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের কারণেই দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা।
জানা গেছে, পৌর এলাকায় চলাচলের জন্য মাত্র ১ হাজার ২০০ টমটমের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে রাজত্ব করছে এর দ্বিগুণেরও বেশি অবৈধ যান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও কয়েক হাজার অটোরিকশা। শহরের চৌধুরী বাজার ট্রাফিক পয়েন্ট, বগলা বাজার, সওদাগর জামে মসজিদ এলাকা, বৃন্দাবন কলেজ রোড মোড়, ঘাটিয়া বাজার, বেবিস্ট্যান্ড মোড়, অনামিকা কমিউনিটি সেন্টার এলাকা ও শায়েস্তানগর ঘুরে সর্বত্রই চোখে পড়ে তীব্র যানজটের একই চিত্র। একেকটি মোড় পার হতে যেখানে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে আধা ঘণ্টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত। ঈদের কেনাকাটার চাপ বাড়ায় দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও বেশি শোচনীয় রূপ ধারণ করছে।
অথচ এই যানজট নিরসনে পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো সুফল মেলেনি। গত ডিসেম্বরে শহরের যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে দুটি পৃথক সড়কে দুই রঙের টমটম চলাচলের নিয়ম চালু করা হয়েছিল। একই সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে যানবাহনের নম্বর প্লেটে যুক্ত করা হয়েছিল বিশেষ ‘কিউআর কোড’। এ ছাড়া প্রায় ৯০০ অটোরিকশাকে সুনির্দিষ্ট অনুমোদন দিয়ে পৌরসভা থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, এর বাইরে কোনো অটোরিকশা শহরে ঢুকতেই পারবে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও সদিচ্ছার ঘাটতিতে সেই সিদ্ধান্ত কখনোই আলোর মুখ দেখেনি।
কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকা এসব লোকদেখানো উদ্যোগের কারণে আগের মতোই হাজার হাজার অনুমোদনহীন, অবৈধ ও অতিরিক্ত অটোরিকশা ও টমটম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের বুক চিরে। ফলে দিন দিন যানজট পরিস্থিতি আরও বেশি জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠছে, যার কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছে না শহরবাসী।
স্বপন রবি দাশ / ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: