ছাতকে পশুর হাট নিয়ে সিন্ডিকেট: কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

ইজারা বহির্ভূত একাধিক অবৈধ হাট পরিচালনা

ছাতকে পশুর হাট নিয়ে সিন্ডিকেট: কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রথম ডেস্ক

২৬/০৫/২০২৬ ১৪:০০:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ ইজারা বহির্ভূত ও অবৈধভাবে একাধিক পশুর হাট পরিচালনার তীব্র অভিযোগ উঠেছে; সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের আইনি বৈধতা না থাকলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক সিন্ডিকেট চক্র প্রকাশ্য দিবালোকে এসব পশুর হাট বসিয়ে লাখ লাখ টাকার অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে। প্রভাবশালী চক্রের এমন স্বেচ্ছাচারী অবৈধ ব্যবসার কারণে একদিকে সরকার যেমন প্রতি বছর বিপুল পরিমাণের ন্যায্য রাজস্ব বা ইজারা মাশুল থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে ডাক নেওয়া বৈধ ইজারাদারগণ তাঁদের আসল মূলধন হারানোর শঙ্কায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইজারা বিবরণী সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছাতক উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১২টি পশুর হাট বসেছিল, যার মধ্যে ৩টি ছিল স্থায়ী এবং বাকি ৯টি ছিল অস্থায়ী হাট; তবে এ বছর ছাতক উপজেলায় ডেইরি খামারি ও সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার্থে গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজার—এই দুটি ঐতিহ্যবাহী বাজারকে স্থায়ী পশুর হাট হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বিশেষ প্রশাসনিক বিবেচনায় ছাতক পৌরসভায় ১টি, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর বাজার এবং নোয়ারাই ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে মোট ৫টি পশুর হাটের লিখিত অনুমতি প্রদান করে উপজেলা প্রশাসন; কিন্তু অজ্ঞাত ও রহস্যজনক কারণে উপজেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আরও ৮টি অস্থায়ী পশুর হাটের কোনো অনুমোদন এ বছর দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন বা অনুমতি ছাড়াই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় প্রকাশ্যে গবাদি পশুর অবৈধ হাট বসানো হচ্ছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে; গত রোববার (২৪ মে) উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের নতুন বাজারে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ইজারা বহির্ভূত এক বিশাল পশুর হাট বসানো হয়েছিল। এছাড়া গত সোমবার (২৫ মে) উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের বুরাইয়া বাজারেও সম্পূর্ণ অবৈধ ও ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট বসেছে এবং এই অবৈধ হাটে পশু কেনাবেচার জন্য গত ২৪ মে দিনব্যাপী এলাকায় সিএনজি ও মাইকযোগে প্রকাশ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছিল। একই সাথে উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের টেটিয়ারচর বাজারেও প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নিয়মিত গরুর হাট চলছে, অথচ এই প্রকাশ্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান তেমন কোনো আইনি তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রশাসনের চোখের সামনে এসব অবৈধ পশুর হাট দিনের পর দিন চললেও রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকরী আইনগত পদক্ষেপ বা উচ্ছেদ অভিযান না নেওয়ায় ছাতকের বৈধ ইজারাদারসহ সচেতন সুশীল মহলের মনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন ও ভুক্তভোগী মহলের দাবি— গ্রামীণ অঞ্চলের এই পশুর হাটগুলো যদি নিয়ম মেনে সরকারি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ইজারা বা টেন্ডার দেওয়া হতো, তবে সরকার এককালীন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বার্ষিক রাজস্ব লাভ করতো; কিন্তু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র ইজারা বহির্ভূতভাবে পশুর হাট পরিচালনা করায় সেই বিপুল পরিমাণ টাকা সরাসরি তাদের পকেটে যাচ্ছে এবং সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, যেখানে বৈধ ডাক নেওয়া ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হওয়ার পথে।

এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটের সঠিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘আমাদের এই উপজেলায় স্থায়ী পশুর হাট হিসেবে শুধুমাত্র গোবিন্দগঞ্জ এবং জাউয়াবাজারকে আইনি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং অস্থায়ী হাটের সংখ্যা মাত্র ৩টি, যার মধ্যে রয়েছে ছাতক পৌরসভা, ইসলামবাজার ও চৌমুহনী বাজার; এ ছাড়া সরকারিভাবে উপজেলার আর কোথাও স্থায়ী বা অস্থায়ী কোন পশুর হাট বা মেলা বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।’’

উপজেলায় যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ পশুর হাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘অবৈধ হাটের খবর পেয়ে ইতোমধ্যে এক জায়গায় আমাদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সফল অভিযান পরিচালনা করেছেন এবং আজকেই বুরাইয়া বাজারেও আমাদের বিশেষ টিম পরিদর্শনে যাবে; সরকারি আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে পশুর হাট কেউ বসালে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’’


এ রহমান

মন্তব্য করুন: