দোয়ারাবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে খালাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ঘাতক ভাগনেসহ গ্রেফতার ৩

দোয়ারাবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে খালাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি, দোয়ারাবাজার

২৬/০৫/২০২৬ ১৫:৫৯:০৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পারিবারিক কলহের জেরে নানাবাড়িতে আপন ভাগনের নির্মম চুরিকাঘাতে শিল্পী বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ খুন হয়েছেন; এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার ভেতরে মূল অভিযুক্ত ঘাতক ভাগনেসহ তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ডুমবন্দ গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের শিকার শিল্পী বেগম একই উপজেলার জালালপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী। এদিকে ঘটনার পর পরই দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদারের সরাসরি নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম উপজেলাজুড়ে রাতভর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা হলেন— ডুমবন্দ গ্রামের বিল্লাল হোসেনের পুত্র ও নিহতের আপন ভাগনে সুজন মিয়া (২২), বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী ও নিহতের আপন বড় বোন মোছাঃ হাছিনা বেগম (৪৮) এবং ভাগনি তনিমা বেগম (১৫)।

পুলিশ ও দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে ডুমবন্দ গ্রামে তাঁদের মৃত নানা খোয়াজ আলীর বাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন; গত রবিবার বিকেলে তুচ্ছ চা-খাওয়াকে কেন্দ্র করে নানা বাড়ির বৃদ্ধা নানি ফালানি বেগমের (৬০) সাথে নাতি সুজন ও মেয়ে হাছিনা বেগমের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নাতি-নাতনি এবং নিজের বড় মেয়ে কর্তৃক বৃদ্ধা ফালানি বেগম শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার খবর পেয়ে তাঁর ছোট মেয়ে (নিহত) শিল্পী বেগম তাৎক্ষণিকভাবে মায়ের বাড়িতে ছুটে আসেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করে নানি ফালানি বেগমকে নিরাপত্তার স্বার্থে নিজের স্বামীর বাড়ি জালালপুর গ্রামে নিয়ে যান। পরবর্তীতে গতকাল সোমবার বিকেলে অন্য আত্মীয়স্বজনরা নানাবাড়ির এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা সম্পর্কে অভিযুক্ত সুজন ও হাছিনা বেগমকে ডুমবন্দ গ্রামে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং এই সংঘর্ষের মধ্যে অতর্কিতে ভাগনে সুজন মিয়া তার আপন খালা শিল্পী বেগমের ডান পাজরে ধারালো চাকু দিয়ে সজোরে আঘাত করলে চাকুর ফলা পাজর ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রক্তাক্ত খালা শিল্পী বেগম এবং আহত নানি ফালানি বেগমকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিল্পী বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্বামী নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার রাতেই দোয়ারাবাজার থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে অ্যাকশনে নামে পুলিশ প্রশাসন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, “পারিবারিক অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সোমবার বিকেলে মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ডুমবন্দ গ্রামে এই দুঃখজনক হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে এবং নিহতের স্বামী সোমবার সন্ধ্যায় থানায় এজাহার দায়ের করার পরপরই আমাদের পুলিশ টিম আসামিদের ধরতে রাতভর বিশেষ অভিযানে নামে; আমরা অত্যন্ত সফলতার সাথে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে রাতেই বিভিন্ন গোপন আস্তানা থেকে মামলার প্রধান আসামি সুজনসহ এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”


মাসুদ রানা সোহাগ/এআর

মন্তব্য করুন: