ঢাকার মিরপুরের আগুনে সুনামগঞ্জের ৫৭টি পরিবারের সবকিছু শেষ

ঢাকার মিরপুরের আগুনে সুনামগঞ্জের ৫৭টি পরিবারের সবকিছু শেষ

সুলতান মোহাম্মদ, ঢাকা অফিস

২৭/০৫/২০২৬ ০৩:১২:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

রাজধানীর মিরপুরের বাউনিয়াবাদ এলাকার এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার অন্তত ৫৭টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আগুনে তাদের বসতঘর, আসবাব, নগদ টাকা ও আসবাবপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর।


স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত রাতে বাউনিয়াবাদ এলাকার একটি বসতিতে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট এসে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে শতাধিক ঘর পুড়ে যায়।


ক্ষতিগ্রস্তদের বড় অংশই সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তারা ঢাকায় এসে বাউনিয়াবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিরাইয়ের চন্দ্রপুর গ্রামের নবাব মিয়া। বাউনিয়াবাদে তাঁর ১৫টি ঘর ছিল, যার সব কটিই আগুনে পুড়ে গেছে।


নবাব মিয়া বলেন, “জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘরগুলো তৈরি করেছিলাম। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি পুরোপুরি নিঃস্ব।”


আগুনে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিরাইয়ের নোয়াগাঁও এলাকার মনোয়ারা, বকুলা, সুর জাগান, বাবুল মিয়া, সেলিম মিয়া; আনোয়ারপুরের সাদিকুর, আবু কালাম, জলিল মিয়া; ধনপুর কাঁড়ারপারের আবদুর রহীম, বাবুল মিয়া, সামিরুল; হরনগরের নেকজান বেগম, আমীর উদ্দিন; ইসলামপুরের গিয়াসউদ্দিন, আবুল হোসেন এবং দিরাই বাগবাড়ির ফারুক মিয়া, মনির হোসেনসহ ৫৭টি পরিবারের সদস্যরা।


ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, “আগুন লাগার সময় আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। টের পেয়ে কোনোমতে জান নিয়ে বের হয়েছি। এখন পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় দাঁড়াব, বুঝতে পারছি না।”


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পোশাক ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি মানবিক সংগঠন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ কত, তা তদন্তের পর জানা যাবে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad