শাল্লায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ২
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পায়েল মিয়া (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ৪ নম্বর শাল্লা ইউনিয়নের ইছাকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পায়েল মিয়া ইছাকপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। আহত ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের সালেক মিয়ার স্ত্রী তাহেরা বেগম (৩২) ও এরশাদুল্লাহর ছেলে আলকাস মিয়া (৫০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইছাকপুর গ্রামের সাইদুর রহমান ও শফিউল মেম্বারের পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত বছরও একই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এরই জেরে আজ দুপুরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পায়েলের মৃত্যু হয় এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
জানতে চাইলে সাইদুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম সিলেটকে বলেন, ‘আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতিপক্ষের লোকজন আকস্মিক আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা পায়েলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হামলায় আমাদের পক্ষের তাহেরা ও আলকাস গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তাহেরার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।’
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফিউল মেম্বারের পক্ষের আওয়াল নুর। তিনি প্রথম সিলেটের কাছে দাবি করেন, ‘সেখানে কোনো মারামারির ঘটনাই ঘটেনি। তারা নিজেরা একটা ঘটনা ঘটিয়ে এখন আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান প্রথম সিলেটকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পায়েলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, আহত ব্যক্তিদের আজমিরীগঞ্জ থেকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
নিশিকান্ত সরকার/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: