বড়লেখায় শিশুকে দিয়ে ৫ লাখ টাকা চুরি: চোর চক্রের ২ নারী গ্রেপ্তার

বড়লেখায় শিশুকে দিয়ে ৫ লাখ টাকা চুরি: চোর চক্রের ২ নারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২৮/০৫/২০২৬ ১৪:২৩:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে শিশুকে ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় ৫ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই চুরির ঘটনায় আন্তজেলা চোর চক্রের দুই নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চুরির কাজে জড়িত আনুমানিক ৭ থেকে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


গত মঙ্গল ও বুধবার (২৬ ও ২৭ মে) সিলেট জেলার বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ সুরমা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—স্মৃতি রানি শাহজি ওরফে স্মৃতি বেগম ও শানু বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।


পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মার্চ বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর বাজারের ‘রাসেল ভেরাইটিজ স্টোর’ নামের একটি দোকানে চুরির এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দোকানমালিক বড়লেখা থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে দোকানের সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ।


সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত দুই নারী মালামাল কেনার অজুহাতে দোকানমালিককে নানা কাজে ব্যস্ত রাখছেন। এই সুযোগে তাঁদের সঙ্গে থাকা ছোট শিশুটিকে কৌশলে ক্যাশ বাক্সের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা চুরি করে ওই নারীদের সঙ্গে চম্পট দেয়।


বড়লেখা থানা-পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর চোর চক্রের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত ২৬ মে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানা-পুলিশের সহায়তায় বিশ্বনাথের সন্ধানী ক্লিনিক এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি স্মৃতি বেগমকে গ্রেপ্তার এবং তাঁর সঙ্গে থাকা শিশুটিকে হেফাজতে নেওয়া হয়।


পরে স্মৃতি বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (২৭ মে) ভোর সাড়ে চারটার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানা-পুলিশের সহযোগিতায় কাশবন এলাকার বাচ্চু মিয়ার কলোনি থেকে চক্রের দ্বিতীয় সদস্য শানু বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।


বড়লেখা থানার পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নারীরা চুরির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁরা মূলত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে সাধারণ ক্রেতা সেজে তাঁরা দোকানদারদের বিভ্রান্ত করেন এবং সুযোগ বুঝে শিশুদের দিয়ে ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করাতেন। এই চক্রের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।


গ্রেপ্তার আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: