স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ: জামালগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানববন্ধন

স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ: জামালগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

৩১/০৫/২০২৬ ২২:৩৫:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের কলকতখাঁ গ্রামে সরকারি সহায়তার তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত না করে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৩১ মে (রবিবার) বিকাল ৪ টায় স্থানীয় কলকতখাঁ বাজারে 'ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সমাজ'-এর ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।


​মানববন্ধনে এলাকার শতশত ক্ষুব্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ করেন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্যের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।


​মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইয়ার হোসেন, আসিক মিয়া, জামাল মিয়া, ইলিয়াস মিয়া, আব্দুল কালাম, আতাউর, সিফত আলী ও শফিকুল প্রমুখ।


​বক্তারা অত্যন্ত জোরালো ভাষায় অভিযোগ করে বলেন, ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সরকারি সহায়তার জন্য তৈরি করা ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় চরম স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম করেছেন। যারা বন্যায় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের নাম সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ মেম্বার তার নিজের আত্মীয়-স্বজন, সচ্ছল ব্যক্তি এবং অনুগত লোকদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।


​বক্তারা আরও বলেন, এই মেম্বারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আমরা যারা সবকিছু হারিয়ে আজ নিঃস্ব, তারা সরকারের দেওয়া ন্যায্য অধিকার ও মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তালিকায় এমন অনেকের নাম দেওয়া হয়েছে যাদের কোনো আবাদি জমিই নেই। আমরা এই ভুয়া তালিকা অবিলম্বে বাতিল করে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।


​এবিষয়ে অভিযুক্ত স্থানীয় মেম্বার মোঃ আক্তার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হয়নি। সরকারি নিয়ম ও নির্দেশিকা মেনেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বাছাই করার চেষ্টা করা হয়েছে। গ্রামে গ্রুপিং বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একটি পক্ষ আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সাধারণ কৃষকদের উস্কে দিয়ে এই মানববন্ধন করাচ্ছে। প্রশাসন চাইলে যেকোনো তদন্ত করতে পারে, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।


​এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এই মানববন্ধনের পর স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ কৃষকেরা অনতিবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কৃষকদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের হক ফিরিয়ে দেওয়া হোক, যাতে সরকারের মানবিক সহায়তার মূল উদ্দেশ্য সফল হয়।

প্রীতম দাস/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: