কুলাউড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে নিয়ে রটনার অবসান
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ‘মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ’-এর এক শিক্ষক ও তার প্রাক্তন ছাত্রীকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে চলমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চাঞ্চল্যের অবসান ঘটেছে। নিখোঁজ বা অপহরণের যে গুঞ্জনটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, স্বয়ং ওই তরুণী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সেটিকে ভিত্তিহীন ও সাজানো গুজব বলে নিশ্চিত করেছেন।
গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের শিক্ষক কায়সারুজ্জামান তার এক ছাত্রীকে নিয়ে ‘নিখোঁজ’ হয়েছেন। নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টিকে ‘অপহরণ’ হিসেবে প্রচার করায় এলাকায় ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বিভ্রান্তি দূর করতে সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তা দেন ওই তরুণী। বর্তমানে কুলাউড়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন: "আমাকে নিয়ে অনেক মিথ্যা রটানো হচ্ছে। আমি এখন আর ওই স্কুলের শিক্ষার্থী নই, আমার বয়স ২১ বছর। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আমার আছে।"
তিনি আরও জানান, কোনো প্রকার জোর-জবরদস্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় এবং পারস্পরিক সম্মতিতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে রয়েছেন এবং সেখানে তাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই।
ভিডিও বার্তায় ওই তরুণী তার নিজের পরিবারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন তারা কোনো প্রকার আইনি জটিলতা বা মামলা না করেন। একইসাথে সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সত্য না জেনে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে যেন কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা না হয়। তার স্পষ্ট কথা— "আমরা বিবাহিত, আমাদের শান্তিতে থাকতে দিন।"
তরুণীর এই ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার মোড় ঘুরে গেছে। সাধারণ মানুষ এবং নেটিজেনরা এখন বলছেন, ২১ বছর বয়সী একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের নিজের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে। বিষয়টিকে অপহরণ হিসেবে প্রচার করা অনৈতিক।
এই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কুলাউড়া এলাকায় দীর্ঘ কয়েকদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটেছে এবং এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সচেতন মহল এখন বিষয়টিকে একটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিণয় হিসেবেই দেখছেন।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: