কুলাউড়ায় পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

আদালতের নির্দেশে সরজমিন তদন্তে ইউএনও

কুলাউড়ায় পোল্ট্রি খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলাউড়া

০২/০৬/২০২৬ ২০:২৮:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামে একটি পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য ও তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা; এই জনদুর্ভোগের প্রেক্ষিতে জেলা আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার সরেজমিনে হাসামপুর গ্রাম এবং অভিযুক্ত খামারটি নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোঃ জাহিদের পোল্ট্রি ফার্মের কয়েকটি বড় শেড থেকে দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও তীব্র দুর্গন্ধ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার কারণে পুরো এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; যার ফলে খামারের নিকটবর্তী এলাকার স্থানীয় কোমলমতি শিশু ও বৃদ্ধরা প্রতিনিয়ত ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির স্থায়ী প্রতিকার চেয়ে হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোঃ সামাদুর রহমান বাদী হয়ে সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট পিটিশন বা অভিযোগপত্র দায়ের করলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পরিবেশগত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি তদন্তের জন্য কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশের আলোকেই আজ প্রশাসনের এই উচ্চপর্যায়ের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মূল অভিযোগকারী শেখ মোঃ সামাদুর রহমান খামারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, “বাণিজ্যিক এই পোল্ট্রি ফার্মের বিষাক্ত জীবাণু, তীব্র দুর্গন্ধ ও মাছি-মশার অত্যাচারে আমাদের বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা আক্ষরিক অর্থেই অসম্ভব ও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে; খামারের ঠিক পাশের একটি জীবন্ত ছড়ায় (পাহাড়ি খাল) প্রতিদিন মরা মোরগ-মুরগি ও বর্জ্য ফেলা হয়, যেখান থেকেও পুরো এলাকায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খামার কর্তৃপক্ষ যদি নিয়ম মেনে নিয়মিত শেড পরিষ্কার ও আধুনিক জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করতো, তাহলে আমাদের এই স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতো না; আমরা নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং আদালতের কাছে সঠিক বিচার চাই।” খামারের পার্শ্ববর্তী সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দারাও এই তীব্র ও অসহ্য দুর্গন্ধ থেকে চিরতরে রেহাই পেতে প্রশাসন ও আদালতের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা পরিবেশ দূষণের যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক শেখ মোঃ জাহিদ নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, “যে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর সাধারণ মানুষ অভিযোগ এনেছেন, মূলত সেই অনুকূল পরিবেশ ও আবহাওয়ার ওপরই আমার এই পোল্ট্রি ব্যবসা সম্পূর্ণ নির্ভরশীল; খামারের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ খারাপ বা নোংরা হলে মোরগ-মুরগি মারা গিয়ে আমার নিজের আর্থিক ক্ষতিই সবচেয়ে বেশি হবে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এলাকার মানুষকে নিয়েই শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ব্যবসা করতে চাই; আজ ইউএনও মহোদয় নিজে এসে সমস্ত বিষয় সরজমিনে তদন্ত করেছেন, আমিও বিজ্ঞ আদালতের কাছে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার আশা করছি।”

উদ্ভূত এই সামাজিক কোন্দল ও প্রশাসনিক তদন্তের বিষয়ে পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী জানান, ইউএনও মহোদয়ের এই সরজমিন তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী বিজ্ঞ জেলা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমতে পরবর্তীতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ আইনগত ও নির্বাহী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী টিলাগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মহিউদ্দিন সামাজিক শান্তির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমরা দ্রুতই দু’পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে বসবো এবং উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি সহায়তায় সমস্যাটি সামাজিকভাবে সমাধানের একটি আন্তরিক চেষ্টা করব যাতে পরিবেশও বাঁচে এবং ব্যবসাও ঠিক থাকে।”

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, “বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই আমরা আজ হাসামপুর গ্রামে সরেজমিনে এসে ওই খামার, বর্জ্যের ছড়া এবং আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে নিখুঁতভাবে তদন্ত কার্য সম্পন্ন করেছি; আমাদের এই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদনটি অতি দ্রুত আদালতে পাঠানো হবে এবং আদালতের পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন: