যাদুকাটা বালুমহাল-১ এর সীমানা নির্ধারণ: কাটল দীর্ঘদিনের জটিলতা

যাদুকাটা বালুমহাল-১ এর সীমানা নির্ধারণ: কাটল দীর্ঘদিনের জটিলতা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৩/০৬/২০২৬ ১৯:৫০:১৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা, স্থানীয়দের আপত্তি এবং পরিবেশগত উদ্বেগের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীর 'বালুমহাল-১' এর সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন নিয়ম মেনে বালু উত্তোলনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে নদীর পাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কারও অবসান ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ হাসান শান্তনুর নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি উচ্চপর্যায়ের দল লাউড়েরগড় সীমান্ত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে। পরে তারা ইজারাদারদের জন্য বালু উত্তোলনযোগ্য নির্দিষ্ট স্থান লাল পতাকা ও নিশানা দিয়ে চিহ্নিত করে দেন।

​সীমানা নির্ধারণের এই বিশেষ অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এই দলে উপস্থিত ছিলেন, ​সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির লাউড়েরগড় ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার, ​তাহিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আব্দুল্লাহ আল মামুন, তাহিরপুর থানা পুলিশের বিশেষ দল, ​যাদুকাটা বালুমহাল-১ এর ইজারাদার পক্ষের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

​প্রশাসনের এই কঠোর ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী এবং নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, সীমানা সুনির্দিষ্ট না থাকায় ইজারাদারেরা যত্রতত্র নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করতেন, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

​স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, ইজারাকৃত জায়গা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়ায় এখন আর ইজারাদারেরা ইচ্ছেমতো নদীর পাড় কিংবা তীরবর্তী কৃষিজমি কাটতে পারবেন না। সরকারি নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করা হলে নদী ভাঙন কমবে এবং পাশের হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

​সীমানা জটিলতার কারণে গত কয়েকদিন ধরে যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন নদীকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহ করা হাজার হাজার পাথর ও বালু শ্রমিক। প্রশাসনের আজকের সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

​যাদুকাটা-১ বালুমহালের ইজারাদার মো. নাসির মিয়া বলেন, উপদেশ প্রশাসন জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়ায় আমরা বড় একটা স্বস্তিতে আছি। সীমানা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে গত কয়েকদিন শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ছিল এবং কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এখন সরকারি নিয়ম ও সীমানা পুরোপুরি মেনে আমরা বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করব।

​প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সীমানার বাইরে এক ইঞ্চি জায়গাও খনন করতে দেওয়া হবে না।


​এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আজ আমরা মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে ইজারা দেওয়া মহালের সীমানা চূড়ান্ত করে দিয়েছি। কেউ এই সীমানা লঙ্ঘন করলে বা পরিবেশের ক্ষতি করে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​সীমানা নির্ধারণের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যাদুকাটা নদীতে পরিবেশ রক্ষা এবং বৈধ পন্থায় রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হলো বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

প্রীতম দাস/এআর

মন্তব্য করুন: