নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ছাদে লিকেজ
বালাগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নিয়ে উদ্বেগ
চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায়,সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের রুগনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন দ্বিতল ভবনের নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, বালু, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ভবনের কাজ পরিচালিত হচ্ছে, যা ভবনের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সোমবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের ছাদে ইতোমধ্যে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি সিলিং দিয়ে নিচে পড়ছে। এছাড়া ছাদ কেটে বৈদ্যুতিক পাইপ স্থাপন করা হচ্ছে এবং শেওলা পরিষ্কার না করেই প্লাস্টার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকলে ভবনটি ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আহাদ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নোমান হুসেন, সহ-সভাপতি আব্দুর রূপ এবং স্থানীয় সমাজকর্মী মনোয়ার হুসেন ও বুরহান আহমদ জানান, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে একাধিকবার অবহিত করেছেন। কিন্তু বারবার অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
তারা বলেন, এভাবে অনিয়মের মাধ্যমে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। তাই তারা সরকারি নকশা ও কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মজবুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রকিব ভূঁইয়া বলেন, রুগনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজে অনিয়মের বিষয়টি দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ দ্রুত সংশোধনের নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী কাজের সংশোধন না হলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তাদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে ভবন নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিস্টানের পক্ষ থেকে জানানো হয় কাজে কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছিল উপজেলা প্রকৌশলি কর্মকর্তার নির্দেশানা অনুযায়ী মেরামত কাজ চলছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজমির শরীফ বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের কাজে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সম্পূর্ণরূপে সংশোধন না করে পরবর্তী নির্মাণকাজ এগিয়ে না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে কারিগরি মান বজায় রেখে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: