গুচ্ছ কবিতা
সুফি আকবর এর কবিতা ‘ইগোহীন মানুষ ও অন্যান্য’
হাজরে আসওয়াদ
*
জীবনের সব দুঃখ নিয়ে আমি
একজন হাজীর মতো মুখোমুখি হই আম্মার
বিধাতা প্রদত্ত পৃথিবীতে
আম্মা যেন হাজরে আসওয়াদ।
নিষ্পাপ শিশুর মতো আমি
চুমু খাই তাঁর মুখে
গুণাহ মাফ হওয়ার মতো
আমার জীবন থেকে দূর হয়ে যায় সব দুঃখ।
পাপ
*
আম গাছের শেষ আমটি—আমি
কৃষক তার চেষ্টায় কোনও ত্রুটি না রেখে
সংগ্রহ করতে না পারায় হাল ছেড়ে দিলেন
আমি বেঁচে গেলাম ভেবে খুশি হলাম
কিন্তু পাড়ার বালকেরা—
নিয়মিত ঢিল ছুঁড়ে থেঁতলাচ্ছে আমায়।
চইতমাইয়া তুমি
*
তোমারে লইয়া হারাদিন ওলা চিন্তা করি
যেমলা চইত মাস আইলে আব্বায় চিন্তা করইন
কিলা ধান তুলা যায় ঘরও, পানি আওয়ার আগে আগে
চিন্তায় কিতা আর ধান ঘরও তুইল্লা দেয়—খউ?
কাম করন লাগে, কাঁচি লইয়া বন্দো যাওয়া লাগে
বন্দো গিয়া ধানকাটা লাগে, কাটা ধান ঝাঁকাত
ভইরা আইন্না বোমায় মাড়া দেওয়া লাগে,
মাড়া দেওয়া ধান
বস্তাত ভইরা টলি দিয়া বাড়িত আনা লাগে
বাড়িত আনা ধান রইদো দিয়া হুকানি লাগে
রইদো হুকানি ধান ছুছা ছাড়াইয়া—
ঘরও তুলা লাগে
ঠাইলও ভরা লাগে
তুমি ঠিক ওমলা আমার কাছে চইত মাস
বুরো ধান, কিলা ঘরও তুলতাম, খালি চিন্তা অয়।
কপাল
*
তোমাকে বারংবার চেয়ে গেলাম তাঁর কাছে
যিনি তোমাকে লিখেন নাই আমার কপালে।
চেয়ে চেয়ে থেমে গেলাম
থেমে গিয়ে মেনে নিলাম
আমাকে ভালো না বেসে তুমি ভালোই করেছো
ভালোই করেছো আমাকে
তোমার থেকে দূরে সরিয়ে রেখে
অহেতুক মাথা ভর্তি দুশ্চিন্তা না নেয়ার জন্য
তোমাকে ধন্যবাদ।
তোমাকে ধন্যবাদ
এই অমাবস্যাময় পৃথিবীতে
আমার অবস্থান বুঝিয়ে দেয়ার জন্য
অবহেলা অপমান করে বারংবার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।
তোমাকে ধন্যবাদ
আমাকে ভালো না বেসে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য
আমার দারিদ্র্যময় জীবনের কথা
অভাব, অনটনের কথা
শুধুমাত্র দারিদ্র্যের কারণে
জীবনে অনেক কিছু চেয়েও পাইনি।
না পেয়ে, না পাওয়া সব
তবু চেয়ে গেলাম তাঁর কাছে
যিনি এই সব কিছু লিখেন নাই আমার কপালে।
ইগোহীন মানুষ
*
প্রথমে যা কিছু মেনে নিতে কঠিন
ধীরে ধীরে তা সহজ হয়ে উঠে।
মেনে নিয়েছি তোমাকে আর পাবো না
যদিও মানুষ নিজের ইগোর কাছে পরাজিত
তবুও পৃথিবীতে কেউ কেউ
বেহায়া, বেলাজা হয়
ভালোবেসে যায় নিরবধি
বয়ে চলা নদীর মতোন।
আমিও ভালোবেসে তোমায়
বেহায়া, বেলাজা হয়েছি
হয়েছি ইগোহীন মানুষ
পরন্ত বিকেলে আনমনা ভেবে দেখেছি
বুকের যেদিকে দুঃখ, সেখানে তোমার মুখ।
আর আর
মন্তব্য করুন: