গুচ্ছ কবিতা
নাসিমা জোহা চৌধুরী এর কবিতা ‘পানকৌড়িমন ও অন্যান্য’
পত্র
*
শীত এসে গেছে ঠিক
প্রতিশ্রুতিশীল প্রেমিকের মতো
আঙিনার কোণজুড়ে লালশাক
ছড়িয়েছে রঙ জংলিছাপার শাড়ী
রাই এর বাগান যেন হলুদনদী
হলুদিয়া ঢেউ শিহরণ জাগায়
পাতাঝরার বেদনা নিয়ে জেগে থাকা
শীর্ণ শাখা ঠিক যেমন
আমিও জেগে থাকি — তোমার পদশব্দের প্রত্যাশায়
নরম নরম দুটি হাতের অভাব
যাবতীয় পূর্ণতাকে মূহুর্তে
শূন্যের গহ্বরে ছুঁড়ে দিয়ে
প্রমাণ করে কতটা নিঃস্ব আমি তোমাকে ছাড়া
কেন যেন ইদানিং মনে হয়
কোথায় গেলে তোমাকে পাই
অজস্র মাজার মসজিদ ঘুরেঘুরে
খানকায় পীরের দরবারে — তুলেছি হাত
কাবার গিলাফে হাজরে আসওয়াদে
মদীনা মিনারে কোথায় কোথায় বল
ভেজাবো ঠোঁট ভাসালে চোখ — তুমি আসবে হে দেবদূত!
ঝরার বেদনা
*
মানুষেরা দ্রুত খসে পড়ছে
কাঁচা পলস্তরা ছেড়ে যেমন খসে পড়ে ইট
স্মৃতির ফ্রেমে তাদের
আটকাতে যেয়ে দেখি
ঝাঁকেঝাঁকে ধবল বলাকা ঠুকরে খাচ্ছে
গেরস্থালির মন মগজ।
রঙ্গনা
*
যদি মনে প্রশ্ন জাগে কিংবা
উঁকি মারে অজানা ঢেউ
যদি ভিজে কভু আঁখি
পুরোনো দিনের গান খসে ফেলে
স্মৃতির পলস্তরা
যদি মন উচাটন করা দুপুর
দুঃখের বাক্সপেটরা খোলে
ভাসিয়ে দেয় উজানের চর
যেখানে রঙ্গনফোটে রোজ
প্রেমেরপরাগ মেখে
তুমি কি জানো
তুমি কি মানো!
কোনো এক মায়ামৃগ আজও
সেখানে — জেগে রয়
জেগে থাকে মায়ারঘোরে!
সেই মায়া
সেই রঙ
সেই ফুল
সেই প্রেম
সেই স্মৃতি
সেই বেদনা মেখে
ঠকে যাওয়া রঙ্গনা
মায়াফুল ফোটায় বৃক্ষ হতে বৃক্ষান্তরে
পানকৌড়িমন
*
এসো জলপাইবনে ডাকে কুচবরণ কন্যা
ঝিরঝির ফুলের বাঁকে এসো হারিয়ে যাই
এসো কাঁপন তুলি হৃদয়ে হৃদয়ে
এসো করালকালে প্রেমেরগীত গেয়ে যাই
এসো বৃক্ষের মতো ভালোবাসা বিলাই
মানুষে মানুষে প্রতিদিন চিরদিন
এসো নীলাম্বর হই সীমানা ছাড়িয়ে
সুর শিঞ্জীনে সাজাই এক অবাক অবনী
এসো ডুব সাঁতারে মায়ানদীর বুকে
এসো পানকৌড়ি মন প্রেমেরনীড় বুনে যাই।
বর্ষা বিষয়ক
*
পদ্ম ফোটাবো বলে
বর্ষাবন্দনায় মেতেছিলাম
সে কি উচ্ছ্বাস
সত্যি সত্যি তীব্র ফোটায় বৃষ্টি এলো
স্বপ্নের চৌকাঠে নতুন পালকের ছোঁয়া
'বসিয়া কদম্ব ডালে '
দেখিবো পদ্মের রূপ!
বর্ষা এলেও তুমি এলে না
পালা বৈঠকি সন্ধ্যায় আকস্মিক
ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে ফুটালে পারমানবিক ফুল
বর্ষা গায়েঁর সলাজবঁধু
পদ্মছাপা আঁচল টেনে হেঁটে চলে
ধোঁয়ার কুন্ডলী মাড়িয়ে।
__________________
( নাসিমা জোহা চৌধুরী। কবি )
দেবব্রত রায় দীপন
মন্তব্য করুন: