হত্যার অভিযোগ পরিবারের
জকিগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের আখাকল্যাণ গ্রামে মাহিনা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত মাহিনা বেগম বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের বাদশাহ মিয়ার মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে জকিগঞ্জের আখাকল্যাণ গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে নোমান উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের তিন মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের মামা আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “সোমবার গভীর রাতে আমরা মাহিনার মৃত্যুর খবর পাই। ঘটনাস্থলে এসে তাঁর মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দিই। মাহিনাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে।” গলায় ফাঁসের চিহ্ন থাকায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
নিহতের বোনের দাবি, পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রথমে জানান, মাহিনা ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন। পরে গলায় ফাঁসের চিহ্ন দেখে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাঁরা আগের বক্তব্য পরিবর্তন করে মাহিনা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন।
স্বামী নোমান উদ্দিনের চাচা আফতাব উদ্দিন নুমানী বলেন, “আমি পাশের ঘরে থাকি। মাহিনার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পালঙ্কের নিচে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি নিজেই জকিগঞ্জ থানা-পুলিশকে খবর দিই।”
জকিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সুজন মিয়া বলেন, “মরদেহের গলায় হালকা ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোর্শেদ লস্কর / আর আর
মন্তব্য করুন: