ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন ভুক্তেভাগীদের
ছাতকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি দখলের অভিযোগ
ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের কুম্ভায়ন মৌজায় উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বাড়ির জমি জোরপূর্বক দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ এনে উচ্ছেদ আইনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন কয়েকজন উত্তরাধিকারী।
গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দাখিল করা ওই আবেদনে আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন মৃত মহাম্মদ আলীর স্ত্রী বিংরাজ বিবি, পুত্র তেরাই মিয়া, চান মিয়া ও বাবুল মিয়া এবং কন্যা জুলেখা বেগম ও হেলেনা বেগম।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুম্ভায়ন মৌজার এসএ ৪৪৬ নম্বর দাগভুক্ত ০.৩০ একর বাড়ি শ্রেণির ভূমি তাদের পৈতৃক ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা জমিটি ভোগদখলে থাকলেও ২০২০ সালে একই গ্রামের মৃত ফরিজ মিয়ার পুত্র আব্দুর রহমান, আব্দুছ ছালাম এবং মৃত হারুন রশিদের পুত্র ইছবর আলী প্রায় ০.০৫ একর জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, নির্মাণকাজ শুরুর সময় তারা বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে বিবাদীপক্ষ ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশ ও সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও বিরোধের কোনো সমাধান হয়নি।আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে দখলকৃত অংশ থেকে ঘর অপসারণ করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও বিবাদীপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। এ অবস্থায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে আবেদনকারীদের জমির দখল ফিরিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখিত তফসিল অনুযায়ী, জমিটি কুম্ভায়ন মৌজার এসএ জেএল নং-৩৮২, এসএ খতিয়ান নং-১৫৯, দাগ নং-৪৪৬-এর মোট ০.৩০ একর বাড়ি শ্রেণির ভূমি। এর পূর্বে এসএ ৩৬৬ দাগের রাস্তা, পশ্চিমে এসএ ৪৪৮ দাগের ভূমি, উত্তরে এসএ ৪৪৭ ও ৩৬৫ দাগের ভূমি এবং দক্ষিণে এসএ ৪৪৫ দাগের ভূমি অবস্থিত।এলাকার একাধিক সালিশি ব্যক্তি জানান, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমাধানের লক্ষ্যে স্থানীয় আমিনের মাধ্যমে কয়েকবার জমি মাপজোখের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বলেন, “আমি ২০০৪ সালে আমার মালিকানাধীন জমিতে ঘর নির্মাণ করেছি। বাড়ির বাউন্ডারি পরবর্তীতে নির্মাণ করেছি। আমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা হয়েছে, আমি নোটিশ পেয়েছি এবং লিখিত জবাবও দিয়েছি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রতিপক্ষ আইনানুগভাবে প্রমাণ করতে পারলে আমি জমি ছেড়ে দেব।
ইছবর আলীর পুত্র জসিম উদ্দিন বলেন, “এটি হয়রানিমূলক অভিযোগ। আমরাও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”অভিযোগকারী বাবুল মিয়া বলেন, “২০২০ সালে আমাদের জমিতে ঘর নির্মাণের সময় আমরা বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উচ্ছেদ আইনে ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। আমি বিশ্বাস করি, সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে সঠিকভাবে মাপজোখ ও তদন্ত হলে আমরা আমাদের জমি ফিরে পাব।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিউদ্দিন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে পূর্বে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি ভূমি অফিসের অধীনে রয়েছে। ভূমি অফিসের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, “কাগজপত্র অনুযায়ী যার জমি, জায়গা তারই হবে। সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোখের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উজ্জীবক সুজন তালুকদার
মন্তব্য করুন: