শাল্লায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ডিসির কাছে লিখিত আবেদন

শাল্লায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, শাল্লা

০২/০৭/২০২৬ ১৭:২৫:১৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্য।


আবেদনকারী ইউপি সদস্যরা হলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সহদেব চন্দ্র দাস এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলমাছ মিয়া।


লিখিত আবেদনে তাঁরা অভিযোগ করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দকৃত ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে ১২টি ভুয়া ও কাল্পনিক উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। রাস্তা নির্মাণ, ঘাটলা নির্মাণ, কালভার্ট, নলকূপ স্থাপন, গোলপোস্ট নির্মাণ, সেলাই মেশিন, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, লাইব্রেরির আসবাবপত্র ক্রয়, রিং স্ল্যাব বিতরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ মোট ১২টি প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।


অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ব্যাটারি, আইপিএস, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদ পরিষদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মসৃজন কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফ, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অপকর্মের সঙ্গে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারীসহ একটি চক্র জড়িত বলে দাবি করেন তাঁরা। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কক্ষটি নিয়মবহির্ভূতভাবে চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নামে সার ও বীজ সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, "সব টাকা উত্তোলন করা হয়নি। যে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তা মহিলা সদস্যসহ তিনজনের ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।" তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত স্থানে পানি থাকার কারণে কাজ না হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।


অন্যদিকে, প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বজনের বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে নলকূপ স্থাপনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, এ বিষয়ে আদালতের কোনো নির্দেশনা বা অভিযোগের কপি আমরা এখনও পাইনি। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বা অফিসিয়াল চিঠি পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এদিকে এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে গেলে প্রতিনিয়ত অনিয়ম ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাঁরা এ ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আমির হোসেইন

মন্তব্য করুন: