জৈন্তাপুরে বিএনপি নেতার ভাইরাল ভিডিও: ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

জৈন্তাপুরে বিএনপি নেতার ভাইরাল ভিডিও: ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি, জৈন্তাপুর

০২/০৭/২০২৬ ২৩:১৬:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার পূর্বাপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে বিষয়টি তদন্তে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার সারীঘাট ডুপি গ্রামের ফয়জুল ইসলামের নামে ব্যবহৃত একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রথম কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে দুই ব্যক্তিকে আপত্তিকর অবস্থায় মাদক সেবন করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়—ভিডিওর এক ব্যক্তি খোদ নিজপাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী এবং অপরজন ভিডিওর প্রকাশকারী ফয়জুল ইসলাম। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।


ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত বুধবার নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদে একটি জরুরি ব্যাখ্যামূলক সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, "ভিডিওতে দৃশ্যমান ব্যক্তিটি দেখতে আমার মতো হলেও, সেটি কোনোভাবেই আমি নই।"


তিনি দাবি করেন, তাকে সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আধুনিক প্রযুক্তির (যেমন এআই বা ডিপফেক) অপব্যবহার করে এই ভুয়া ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও প্রকাশকারী ফয়জুলের সাথে পূর্বের একটি স্থানীয় সালিশ-বিচারকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল উল্লেখ করে চেয়ারম্যান এটিকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেন।


তবে ভিডিওটির সত্যতা কিংবা এতে চেয়ারম্যানের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।


এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসনের। জেলা প্রশাসকের বিশেষ নির্দেশনায় ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে চেয়ারম্যানের প্রকৃত সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের জন্য বৃহস্পতিবার ৫ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন।


জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রথম সিলেটকে নিশ্চিত করে বলেন, জেলা প্রশাসকের আদেশক্রমে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন,মো. অলিউর রহমান (আহবায়ক) সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। বাকী ৪ জন হলেন, সদস্য: শ্যামল চন্দ্র দাস (উপজেলা আইসিটি অফিসার) মো. চাঁন মিয়া (পরিদর্শক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, সিলেট) মো. ওসমান গনি (পুলিশ পরিদর্শক-তদন্ত, জৈন্তাপুর মডেল থানা) ও সদস্য-সচিব: ডা. সুজেয় চৌধুরী (মেডিকেল অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জৈন্তাপুর)।


প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির প্রতিবেদনের ওপরই এখন নির্ভর করছে ঘটনার আসল সত্যতা।

সাইফুল ইসলাম বাবু / ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: