সিলেটে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উত্তাল বিক্ষোভ
তুমি কে, আমি কে? ‘পোল্ট্রি পোল্ট্রি’!
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে সারাদেশের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেটের রাজপথ। পরীক্ষা বর্জন, ভুল প্রশ্নপত্র এবং বন্যার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ার জোরপূর্বক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এ সময় মন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন—‘তুমি কে, আমি কে, পোল্ট্রি পোল্ট্রি!’
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় সিলেট নগরীর ব্যস্ততম চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এই অবরোধের কারণে রাস্তার উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে পুরো নগরজুড়ে। সৃষ্টি হয় তীব্র ও অসহনীয় যানজটের।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংবাদমাধ্যমের কাছে তাদের ক্ষোভ উগড়ে দেন। এক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "উনি (শিক্ষামন্ত্রী) মুখে বড় বড় কথা বলেন। আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার গল্প শোনান। অথচ বাস্তবতা হলো—তাদের তৈরি করা ‘আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড’ প্রশ্নই ভুল! শিক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এর চেয়ে আমাদের আগের কারিকুলাম আর আগের সিস্টেমই অনেক ভালো ছিল।"
শিক্ষামন্ত্রীর একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জবাবে অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, "শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের 'পল্টি' (মুরগি) বলে কটাক্ষ করেছেন। এখন দেখুন 'পল্টি' কাকে বলে! অধিকার আদায়ে আজ সারাদেশের শিক্ষার্থীরা রাজপথে পল্টি নিয়েছে। যারা একটা সঠিক প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারে না, তারা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবে কীভাবে? কোন যোগ্যতায় তিনি চেয়ারে বসে আছেন?"
শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, আমেরিকার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থা আর বাংলাদেশের বাস্তবতার পার্থক্য যিনি বোঝেন না, তিনি কোন যোগ্যতায় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকেন?
বন্যার্তদের অবহেলার অভিযোগ
আন্দোলনরতদের অভিযোগ, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যখন ভয়াবহ বন্যায় ভাসছে, তখন শিক্ষামন্ত্রী কোনো খোঁজই রাখছেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, কষ্ট করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে। বন্যায় বিপর্যস্ত এলাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো প্রস্তুতিও নিতে পারেনি।
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আগেই বন্যা পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যেকোনো প্রশ্নপত্রেই তারা পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু প্রশাসন সেই যুক্তিসঙ্গত দাবি কানে তোলেনি।
উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টি ও মারাত্মক জলাবদ্ধতার মধ্যেও গত সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত না করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বন্যাকবলিত অনেক এলাকার পরীক্ষার্থীরা সেদিন কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। ভুক্তভোগী সেসব শিক্ষার্থীর কথা বিবেচনা করে সোমবারের পরীক্ষাটি পুনরায় গ্রহণ এবং অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেই রাজপথে নেমেছেন সিলেটের শিক্ষার্থীরা। বিকেল ৫টার দিকে তারা রাজপথ ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: