জাকির মোহাম্মদ এর গুচ্ছ কবিতা ‘ভরাঙ্গ নদীর কবিতা ও অন‍্যান‍্য’

জাকির মোহাম্মদ এর গুচ্ছ কবিতা ‘ভরাঙ্গ নদীর কবিতা ও অন‍্যান‍্য’

প্রথম ডেস্ক

১৩/০৭/২০২৬ ০২:৫৪:১২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ভরাঙ্গ নদীর কবিতা - ৩

*


শ্রাবণের বৃষ্টি ধুমধুমাইয়া আসিলো, পড়িলো ঝুরঝুর ভরাঙ্গের বুকে। উড়িলো সাদা সাদা বক, পানকৌড়ি কত, নানাবিধ সুখে। তুলিলো ছবি আহমদ হাজারী, করিলো বসচা দিলবারের পোয়ার লগে। দেওকলম হেলিয়া দুলিয়া বলিয়া গলিয়া পড়ে বাতাসের রগে। এলাখমিয়ার দুইতালা গেইটে অনে দেখি মসজিদের মিনার। সারা পুকুর ভরি সবুজের থেকে তুলে আনা মোহর দিনার। সারি সারি গোবাক্ষের বুকে রউ মাছের আছিলো। নুন্দিয়া বুন্দিয়া মাটির তলে দেখি পোকাও নাচিলো। ভরাঙ্গ নদীর তলদেশে লাই খেলাইয়া কালা মাটি আনিতাম চৈত্রের দুপুর। ধুমধুমাইয়া শ্রাবণের বৃষ্টি আসিয়া হইলো উপুড়। 


ভরাঙ্গ নদীর কবিতা - ৮

*

এরবাদে নু দেখি একদিন ভরাঙ্গের পশ্চিম দিকে যেলা সূর্যাস্ত অস্ত যায় ইলা তোমার খপাল বরাবর একখান ঘর। হেলেঞ্চার ফাতায় ফাতায় সাদা ফুলে বইয়া কালা কালা ভ্রমর খেলা করে । ইনো মুতরার ঝাড়ে অত সুন্দর খেলা করে প্রাণের প্যান্টখোলা শৈশব তা আইজ কইতাম খারে।


ভরাঙ্গে আইজ আর জল নাই, জল থাকলে আছে খুব ভিতরে,তার উপরে হালকা জার্মুনির আছড়। করচের জড়ের মত দিলবারের চুলে কোন কোন বারিষায় খাবি খাইতো মাগুর মাছের ফাল। লাল, নীল, সাদা আর মাহিনের মায়ের মুখের আঁছিলের মত পালগুলি বৈঠায় তানে বুঝি মাদ্রাসা ঘুরে চেপ্টির হাওরে নামতো আরেক গেরামের বাজার করি। জীবন এভাবেই একদিন ভরাঙ্গের উদলা স্রোতে নোঙর গাড়ছিল। 


জানোনি, ভরাঙ্গের জলের মত তোমার হাসি কতদিন দেখছিনা। মায়াবন আর মুতরাবনে ঘুরছি না তারও বেশি। ইশকুল ঘরের টিলা আগের মত টিলাই আছে ছোট দূর্বা আর ভিন্নার ঘাগরায় লুঙ্গির তল আইজও খাউজ্জায়। মনো বড় খাউজ্জায় তোমার মুখ।


ভোরের কাসিদা - ২২

*

আমাদের ভোর জড়াজড়ি খায় হিজলের বনে

গরু রাখালের সাথে তরণীর বিবাদ হাতাহাতির 

দেওবনজুড়ে কোলাহল পেছকুন্দার কন্ঠ জাহির  

ডাকাডাকি নেড়া কুড়ানি আও যাও মধুর সনে 


হিজলার তলে লেমটিপাড়া মাথার উপরে রোদ

গরু চরিয়া বেড়ায় দেওবনের ছেমায় আমরার 

জড়িয়ে থাকা বিশ্রামের অমোঘ চক্র সহস্রবার

প্রণয়ের প্রথম গিটার হাতে নিই করিনি বিরোধ 


বারির ডাক পড়ে এঘর ওঘর পাশাপাশি যারা

চারঘর বা দুঘরে হেমন্তে কাটিয়া যায় বেলা

সোনালী ধানের নেড়ায় সবুজের অবাধ খেলা

প্রকৃতি প্রসব করে রোজ আনন্দের ফল্গুধারা 


হিজলের তল ঘাসফুলে আমাদের যত ব্যাথা

নিরাই চাঁদরাত প্রেমের আলো বলিয়া যায় কথা


ভোরের কাসিদা - ২৭

*

খালি বাড়ির দাদাজীর কবর আমবন ছায়াতলে

যাবার পথে সালাম আসার পথে এখানে হর্ষ মিলে

ধূলিওড়া সমস্ত উঠোন জুড়ে চাঁদ রাতে চমক দিলে

দাদাজীর রুহানি নূর আমার হৃদয়ে প্রতিদিন গলে


চৈতের দুপুর পাতা ঝরা সময়ে কবর নির্জন সাদা

চারদিকে গাছের কোলাহল তবুও জমেনি পাতা

দাদাজী আমার জীবন মোহনার কবিরাজী খাতা

তিন প্রজন্মের প্রাণের মিলন চোখের জলে কাদা


মাথার কাছে সন্ধ্যামালতি আর জবাফুলে প্রেমে

সন্ধ্যার আকাশে মোমবাতি আগর বাতাসে দোলে

দাদাজীর স্মৃতি বুকের ভেতর শ্রদ্ধার পারদ গলে

পশ্চিমে রোদের রশ্মি কবরে আসিয়া যায় থেমে


গভীর রাতেও খালি বাড়ি দাদাজী ভরসার চাদর

দাদাজীর রুহানি নূর এখনো পাই মম চিত্তে আদর


রাত্রি নিশি না পোহাইও, রবীন্দ্রনাথ

*

তখনও বোধে আসেনি ভাষা, দৃষ্টিতে কেবল কালো অক্ষরে

দীঘল রাত্রির আখ্যান হয়ে বৃক্ষছায়ায় ঢেউ উঠেছিলো

চির অসীমের দিকে রাত্রি না পোহাইও, রবীন্দ্রসংগীত 

লিসবনের অলিগলি, পুরাতন শহর, আলফামা, বম্বার্ডার

সিঁড়ি তার দেয়াল ঘেঁষে শেষ রাতে দুজন প্রেমের চিহ্ন রাখে

সেই ছবি একটু খেয়াল করলে, আরেকটু বুকের ভেতর গাঁথি

রাখলে রাত্রি নিশি না পোহাইও, রবীন্দ্রনাথ...


আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad