মৌলভীবাজারে ১২০০ কমলা গাছ কাটার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

চাঁদাবাজির অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের

মৌলভীবাজারে ১২০০ কমলা গাছ কাটার অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

২০/০৭/২০২৬ ১৭:১৫:৩৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারে বন বিভাগের এক অভিযানে এক হাজার ২০০টি ফলন্ত কমলা গাছসহ বিভিন্ন ফসলি বাগান কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের অধীনস্থ আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবিকৃত টাকা (চাঁদা) দিতে না পারায় প্রতিহিংসামূলকভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বন বিভাগ বলছে, অবৈধ জবরদখল উচ্ছেদ ও বনায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) বাগান মালিক মোছা. সালমা বেগম ও তার পরিবার জানান, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বিভিন্ন এনজিও থেকে ১৫-২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বনের প্রায় ১০ কিয়ার (কানি) জমিতে এই কমলা, পেঁপে ও লাউ বাগান গড়ে তুলেছিলেন তারা। আর মাত্র তিন মাস পর বাগান থেকে প্রায় ২৫-২৬ লাখ টাকার ফল বিক্রি করার কথা ছিল।

তাদের অভিযোগ, গত ৮ বছর ধরে বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে তারা এই বাগান টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি আর্থিক সংকটের কারণে দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাদের আবাদ করা গাছ কেটে ধ্বংস করে দেওয়া হয় এবং পানি সেচের মেশিনও ভেঙে ফেলা হয়। সালমা বেগমের শাশুড়ি আলেকজান বিবিও একই অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বন বিভাগের অনিয়ম সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এই পরিবারটি তথ্য দিয়েছিল। এছাড়া বনের জমিতে অন্যদের অলিখিতভাবে চাষাবাদের সুযোগ দেওয়া হলেও কেবল এই পরিবারটির ওপর অভিযান চালানোয় বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া বলেন, সংরক্ষিত বনের ভেতরে যেকোনো ধরনের জবরদখল সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি কত বছর ধরে জবরদখল ছিল তা বিবেচনাধীন নয়, অবৈধ দখল অবমুক্ত করতে আমাদের উচ্ছেদ তৎপরতা সর্বদা চলমান থাকে। তবে টাকা না দেওয়ায় বাগান কেটে ফেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগটি তিনি এড়িয়ে যান।

অন্যদিকে, সিলেট বন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান জানান, ১৯২০ সালের 'ভিলেজার সিস্টেম' অনুযায়ী কেবল নিচু জমিতে ধান চাষের নিয়ম রয়েছে। পাহাড় বা টিলায় ফল বাগান করার কোনো নিয়ম বন আইনে নেই। বনের জমি পুনরুদ্ধার করে সেখানে নতুন করে বনায়ন করাই বন বিভাগের মূল নীতি এবং সেই অনুযায়ীই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


তবে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা অনিয়ম বা চাঁদা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

দীর্ঘ ৮ বছর ধরে গড়ে ওঠা একটি উৎপাদনশীল ফলন্ত বাগান এভাবে কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই ঘটনার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা অনিয়ম রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

শাহিন আহমদ / রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad