ছাতকে কৈতক হাসপাতালের জমি উদ্ধার: দুটি বিতর্কিত নামজারি বাতিল

ছাতকে কৈতক হাসপাতালের জমি উদ্ধার: দুটি বিতর্কিত নামজারি বাতিল

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

২২/০৭/২০২৬ ২২:০১:৪৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কৈতক মৌজায় কৈতক হাসপাতালের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটেছে। দুটি পৃথক নামজারি রিভিউ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ এক আদেশে ওই হাসপাতালের জমি পূর্বের এসএ খতিয়ানে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে নামজারি রিভিউ মোকদ্দমা নম্বর ৯২/২৪-২৫ ও ৯৩/২৪-২৫-এর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন ছাতকের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৫০(১) ধারা অনুযায়ী দুটি নামজারি খতিয়ান থেকে মোট ০.১০৯৮ একর জমি কর্তন করে সাবেক এসএ ৭৬ নম্বর খতিয়ানে পুনর্বহালের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

রিভিউ মামলা নং ৯২/২৪-২৫: কবির আহমদের নামে নামজারিকৃত ৫৪৪ নম্বর খতিয়ানের ৩৮১ নম্বর দাগের ০.০৭৩৩ একর জমি কর্তন করা হয়েছে। রিভিউ মামলা নং ৯৩/২৪-২৫: নজির আলীর নামে নামজারিকৃত ৫৫১ নম্বর খতিয়ানের ৩৮১ নম্বর দাগের ০.০৩৬৫ একর জমি বাতিল করা হয়েছে।

বাতিলকৃত এ দুটি খতিয়ানের জমি সাবেক এসএ ৭৬ নম্বর খতিয়ানে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারের সরেজমিন তদন্ত, এসএ রেকর্ড, মৌজা ম্যাপ এবং নিবন্ধিত দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়— এসএ রেকর্ডভুক্ত মূল মালিকেরা ১৯৬১ সালের একটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমি তৎকালীন চিফ মেডিকেল অফিসারের অনুকূলে হাসপাতালের জন্য হস্তান্তর করেছিলেন। ফলে পরবর্তীতে ওই জমি অন্য কারও নামে নামজারি করা আইনগতভাবে টেকসই নয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।

সরেজমিন তদন্তে আরও জানা যায়, বিতর্কিত ৩৮১ নম্বর দাগের প্রায় ২১ ফুট জমি বর্তমানে হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে এবং অবশিষ্ট অংশ প্রাচীরের বাইরে রয়েছে।

সব তথ্য-প্রমাণ, দাপ্তরিক রেকর্ড ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মত দেন যে, ব্যক্তিমালিকানায় সৃষ্ট নামজারি খতিয়ান থেকে জমি কর্তন করে সাবেক এসএ ৭৬ নম্বর খতিয়ানে পুনর্বহাল করাই আইনগতভাবে সমীচীন।

ইতোমধ্যেই এ আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

সুজন তালুকদার / নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad