সিলেটে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ, নেত্রকোনা থেকে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
সিলেটে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত জয় দাসকে (২৩) নেত্রকোনা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) যৌথ দল। এ সময় অপহৃত ওই তরুণীকেও উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) র্যাব-৯-এর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার জয় দাস নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী থানার শিবপুর গ্রামের হরিধন দাসের ছেলে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিকটিম সিলেট নগরীর করেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় করেরপাড়া সিটি মডেল স্কুল থেকে সদ্য অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে প্রধান আসামি জয় দাস প্রায়ই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ভিকটিম তার পরিবারকে জানালে, তার বাবা অভিযুক্তের বোনজামাই রিংকু দাসের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেন। তখন রিংকু দাস ভিকটিমকে আর বিরক্ত করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ১৬ জুলাই দুপুর ৩টার দিকে ভিকটিম হাওলাদারপাড়ায় তার খালার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তিনি সেখানে না পৌঁছানোয় পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, করেরপাড়া পয়েন্ট এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় জয় দাস ও অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন মিলে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গেছেন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তার ও ভিকটিমকে উদ্ধারে ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৯।
পরবর্তীতে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ জুলাই র্যাব-৯ (সদর কোম্পানি) ও জালালাবাদ থানার একটি যৌথ দল নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানার মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে মামলার প্রধান আসামি জয় দাসকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উদ্ধার হওয়া ভিকটিম ও গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: