৯০ বছরেও শ্রীমঙ্গলে স্থাপন হয়নি স্থায়ী ময়লার ডাম্পিং স্টেশন
পৌরসভা গঠনের ৯০ বছর অতিবাহিত হলেও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী ময়লার ডাম্পিং স্টেশন। ফলে শহরের কলেজ রোডের খোলা জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। রিসাইক্লিং ব্যবস্থা না থাকায় পচে-গলে বর্জ্যের গন্ধে বিষিয়ে উঠছে পরিবেশ, যা মারাত্মক হুমকিতে ফেলছে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোডের ময়লার ভাগাড়ে পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়িগুলো একের পর এক এসে ময়লা ফেলে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেই পাহাড়সম হয়ে জমেছে বর্জ্যের স্তূপ। এ বর্জ্যের উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশের প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। এতে মশা-মাছির তীব্র উৎপাত ও দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।
পৌরসভার নাগরিক মনহত শর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘ ৯০ বছরে এ পৌরসভায় জনসংখ্যা, বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও পর্যটকের আগমন বহুগুণ বেড়েছে। এতে বর্জ্যের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু আজও এখানে কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলা হয়নি। ফলে কলেজ রোডের ভাগাড়ের আশপাশের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে নানা রোগবালাই লেগে আছে।"
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ২০০২ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। আইন অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও শ্রীমঙ্গল পৌরবাসী আজও সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্থায়ী ভাগাড় না থাকায় শহরের প্রধান সড়কের পাশেই জমে থাকছে ময়লার স্তূপ, যা শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্য ও পরিবেশকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।
অবশ্য বর্জ্য সমস্যার সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষের চেষ্টার কমতি ছিল না বলে জানানো হয়। ২০১৭ সালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জেটি রোড এলাকায় ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ডাম্পিং স্টেশনের জন্য ২ দশমিক ৪৩ একর জমি ক্রয় করে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা। তবে সেই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি আদালতে মামলা করলে কাজ স্থগিত হয়ে যায়। ২০১৩ সালের মে মাস পর্যন্ত আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে শহরের কলেজ রোডের অস্থায়ী ভাগাড়টি অপসারণ বা স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।
স্থায়ী ময়লার ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি চান শ্রীমঙ্গল পৌরবাসী।
শাহিন আহমেদ/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: