জেলা পুলিশের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সতর্কতা জারি
মৌলভীবাজারে এসপি ও ওসিদের ছবি ব্যবহার করে চাঁদাবাজি
মৌলভীবাজারের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নাম, ছবি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করছে একটি চতুর প্রতারক চক্র। সম্প্রতি জেলার একাধিক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের কাছে 'পুলিশ বক্স' স্থাপনে সহায়তার অজুহাতে অর্থ চেয়ে এমন মেসেজ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি নজরে আসার পর এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা পুলিশ। একই সাথে সর্বসাধারণকে বিভ্রান্ত না হতে এবং যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থ দাবি করছিল। চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একটি বিশেষ দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতারণা এড়াতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
অর্থ লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা: পুলিশ বা প্রশাসনের যেকোনো কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, মোবাইল কল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অজুহাতে টাকা বা চাঁদা দাবি করা হলে তা কোনোভাবেই না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
পরিচয় যাচাই: এ ধরনের কোনো বার্তা বা কল পেলে সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি কিংবা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রেরকের সত্যতা যাচাই করতে হবে।
প্রমাণ সংরক্ষণ: প্রতারণার চেষ্টা করা হলে বা সন্দেহজনক মেসেজ পেলে সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিনশট, ফোন নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ দায়ের: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে বা মেসেজ পেয়ে থাকলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে।
ভুল বার্তা বা অপপ্রচারে প্ররোচিত না হয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে সতর্ক ও সচেতন থাকতে মৌলভীবাজারবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: