দলের দুর্দিনে রাজপথে থাকা ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে: জি কে গউছ

দলের দুর্দিনে রাজপথে থাকা ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে: জি কে গউছ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৪/০৯/২০২৬ ২০:২০:৫৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আগামীতে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন কমিটিতে রাজপথের ত্যাগী এবং জেল-জুলুমের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদেরই মূল্যায়ন করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) আলহাজ মো. জি কে গউছ। একই সাথে ফ্যাসিস্ট শক্তির সাথে গোপন সখ্য রাখা সুবিধাবাদীদের দলে কোনো স্থান হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জ শহরের পানসী রেস্টুরেন্টে জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় জেলার ১৬টি ইউনিটের সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে আগামী ৩ অক্টোবর সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং ১৭ অক্টোবর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সদস্য (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট আব্দুল হকের পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জি কে গউছ বলেন, "রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি মহল 'ডিসেম্বরে ক্ষমতার রদবদল' বা সরকারের আসা-যাওয়া নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এই অপপ্রচার মোকাবিলায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সচেতন থাকতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "কথা ও কাজের মিল রেখে চলার নামই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আমরা অতীতে অনেক সময় নষ্ট করেছি, আর তা করতে চাই না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সকল ইউনিটের সম্মেলন সম্পন্ন করতে হবে।" সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তৃণমূলের নেতাদের সতর্ক করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, "সংগঠনে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে তা যেন কোনোভাবেই প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। যারা দলকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছে, তারা নিজেরাই দল থেকে ছিটকে গেছে। বিএনপি একটি বিশাল ছায়াবৃক্ষ, আমরা সবাই সেই ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ ও নিরাপদে থাকতে চাই।"

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, "দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ফসল হিসেবে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বিএনপি একটি বিশাল দল হলেও আগামী দিনে তাদেরকেই নেতৃত্বে আনতে হবে, যারা রাজপথে ও আন্দোলনের ময়দানে কঠিন সময়ে সক্রিয় ছিলেন।"


সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্য ও নেতৃবৃন্দ গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে নিবেদিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে 'তেলবাজ' ও সুবিধাবাদীদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জেলার ১৬টি ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নিজ নিজ ইউনিটের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের অগ্রগতি এবং সম্মেলনের প্রস্তুতি তুলে ধরেন। আংশিক কাজ শেষ করা দিরাই, শাল্লা, সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বাকি ইউনিটগুলোকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সামগ্রিক সম্মেলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে।

লতিফুর রহমান রাজু/ নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad