দেশে ফেরার পরিকল্পনা
আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দিল্লিতে সভা ডেকেছেন শেখ হাসিনা
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠকে ডেকেছেন। ২০২৪ সালে তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের নিয়ে এটিই হবে শেখ হাসিনার প্রথম সরাসরি বৈঠক। বৈঠকে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতির পাশাপাশি তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্য বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও এতে উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তবে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়নি।
তবে ইউরোপে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক জানিয়েছেন, বৈঠকে দলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তার ভাষ্য, ভারতে অবস্থানরত নেতাদের কাছ থেকে শেখ হাসিনা দলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশে ফেরার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ সরাসরি শুনবেন।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, নেত্রী অনেককে ডেকেছেন। তবে বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দলের অনেক নেতা-কর্মী এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা দেশে-বিদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। আত্মগোপনে থাকা দলের কিছু নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। একই সময়ে গ্রেপ্তারও অব্যাহত রয়েছে। কারাগারে থাকা দলের কয়েকজন নেতা জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন।
দলীয় কার্যক্রম পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠন করছে। ৫ আগস্টের পর যারা সক্রিয় ছিলেন এবং নির্যাতন-হয়রানির শিকার হয়েছেন, নতুন কমিটিতে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিপরীতে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকা অনেক নেতাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিকে অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে কয়েকটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ নামে এসব পরিকল্পনার মধ্যে আকাশপথ ও স্থলপথে ফেরার বিষয়ও রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরে ফেরার পথ চূড়ান্ত করা হবে।
শেখ হাসিনা পেট্রাপোল-বনগাঁ স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরলে আওয়ামী লীগ ‘টুঙ্গিপাড়ায় লং মার্চ’ কর্মসূচি নেওয়ার কথা ভাবছে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে আকাশ ও সড়কপথে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অনেক কৌশলগত বিষয় রয়েছে এবং নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
আবদুর রহমান আরো বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে টুঙ্গিপাড়ার গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। নিরাপত্তাসহ অন্যান্য কৌশলগত বিষয় বিবেচনা করেই তার দেশে ফেরার পথ ঠিক করা হবে। সাবেক এই মন্ত্রীর দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে দলের কয়েক লাখ নেতাকর্মী রাস্তায় নেমে আসবেন।
তার ভাষায়, এ জন্য আলাদা কোনো কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না। সাধারণ মানুষও তাকে দেখতে রাস্তায় বেরিয়ে আসবেন বলে তিনি মনে করেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা আপাতত গোপন রাখা হচ্ছে। তার মতে, নেত্রীর দেশে ফেরার সঙ্গে অনেক কৌশলগত বিষয় জড়িত থাকায় এখনই সব পরিকল্পনা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে এর রূপরেখা জানানো হবে।
এদিকে দলীয় নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নয়াদিল্লিতে সরাসরি সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন। সেখানে তিনি দেশে ফেরার পথ সম্পর্কে ঘোষণা দিতে পারেন। তারা আরো জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সাবেক কয়েকজন কূটনীতিকও তার দেশে ফেরার সময় সঙ্গে থাকতে পারেন।
নিউইয়র্কে অবস্থানরত হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন।
তার ভাষ্য, এর আগে তারা সবাই ভারতে যেতে পারেন এবং বর্তমানে শেখ হাসিনার নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: