সিলেটে বাণিজ্য মেলা নিয়ে অশুভ ইঙ্গিত!

সিলেটে বাণিজ্য মেলা নিয়ে অশুভ ইঙ্গিত!

আশিস রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭/০৯/২০২৬ ০৭:৩১:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

প্রায় তিন বছর পর সিলেটে বাণিজ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ঘিরে এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নানা অশুভ ইঙ্গিত। একসময় যে মেলা হতো স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ ও উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা হিসেবে, তা এখন পরিণত হয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিন্ডিকেটের গোপন আঁতাত এবং রাজনৈতিক রাজনীতিকীকরণের এক আখড়ায়। আগামী ১০ অক্টোবর ঐতিহ্যবাহী শাহি ঈদগাহ মাঠে মাসব্যাপী এই মেলা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে 'সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে মেলা আয়োজনের সকল প্রশাসনিক প্রস্তুতি থাকলেও নেপথ্যের নানামুখী তৎপরতা ও বাধার মুখে আয়োজকরা এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।


মেলার ঘোষণা আসার পরপরই 'বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা' ও 'সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ'-এর ব্যানারে একশ্রেণির ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হঠাৎ রাজপথে নেমে এসেছেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে মেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিও দেন তারা। বৈশ্বিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরীক্ষা ও বিদ্যুৎ সংকটের দোহাই দিয়ে মেলা পণ্ড করার এই তৎপরতাকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সিলেটে মেলাকে কেন্দ্র করে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গোপন স্নায়ুযুদ্ধ বহু পুরোনো। কোনো একটি সিন্ডিকেট মেলা পরিচালনার চুক্তি পেলে প্রতিপক্ষ ইভেন্ট গ্রুপগুলো স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী নেতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মেলা পণ্ড করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। বর্তমান আন্দোলন ও স্মারকলিপি প্রদানের পেছনেও এমন কোনো অদৃশ্য সুতার টান কাজ করছে কি না, তা নিয়ে খোদ ব্যবসায়ী মহলেই প্রশ্ন উঠেছে।


পরিস্থিতি আরও জটিল ও রহস্যজনক রূপ নেয় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর), যখন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ‘সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ’-এর এক অনুষ্ঠানে মেলার বিরুদ্ধে সুর তোলেন। মেলাকে অসময়ের আয়োজন আখ্যা দিয়ে তিনি একে শৃঙ্খলায় আনার কথা বলেন। এই বক্তব্যের পর সিলেটে চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, যে উইমেন চেম্বার মেলাটির আয়োজন করছে, সেই পরিচালনা পর্ষদে অন্যতম প্রভাবশালী পদে রয়েছেন খোদ মন্ত্রীর সহধর্মিনী সামা হক চৌধুরী। নিজ পরিবারের সম্পৃক্ততা থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রীর এমন আচমকা অবস্থান বদলকে অনেকে কেবল ব্যবসায়ী স্বার্থের কথা বলছেন না, বরং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সাথে স্থানীয় রাজনীতির অদৃশ্য পরাশক্তি বা মেরুকরণের অশুভ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।


এদিকে পিছু হটতে নারাজ নারী উদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ীদের এই বিরোধিতার মুখে ২২ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক ও সিলেটে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে উইমেন চেম্বার। তাদের সাফ কথা—বিগত তিন বছর ধরে স্থবির হয়ে পড়া নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে এই মেলা অপরিহার্য। একটি বিশেষ চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নারী উদ্যোক্তাদের দমিয়ে রেখে তাদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলার চক্রান্ত করছে অভিযোগ তুলে উইমেন চেম্বার নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে তারা সিলেটের রাজপথে কঠোর কর্মসূচীতে নামবেন। সব মিলিয়ে, সিন্ডিকেট বাণিজ্য, রাজনৈতিক ভেদাভেদ এবং উদ্যোক্তাদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে আগামী ১০ অক্টোবরের বাণিজ্য মেলা আদৌ আলোর মুখ দেখবে নাকি আবারও চক্রান্তের বলি হবে—তা নিয়ে পুরো সিলেটজুড়ে বইছে গভীর দুশ্চিন্তা ও সংশয়ের হাওয়া।


এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, মেলা বন্ধের কোন পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, মেলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এর মধ্যে সারাদেশের প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাছাড়া মেলা বিনোদনেরও একটি অংশ।  তিনি বলেন, মেলা বন্ধে সরকারি কোন নির্দেশনা আসলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের যুক্তিও অমূলক নয়। তবে সারাদেশ ছোট ছোট উদ্যোক্তা বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের বিষয়টিও ব্যবসায়ীদের বিবেচনায় রাখা দরকার। 

ডিডি/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad